পর্দার আড়ালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কী ঘটছে?
-
• ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ক্রমবর্ধমান সংকট
পার্সটুডে- বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
IRNA-এর উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, বিস্তৃত তথ্য, নিরাপত্তা প্রতিবেদন এবং ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তার ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর জনবল সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এটি এমন এক সংকট যা কমান্ডারের অভাব, অফিসারদের পদত্যাগ, উৎসাহে ব্যাপাক ভাটা, মানসিক ক্লান্তি, রিজার্ভ বাহিনীর সংকট এবং সামরিক পরিষেবায় বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি এখন কেবল একটি প্রশাসনিক সমস্যা বা একটি অস্থায়ী চ্যালেঞ্জ নয় বরং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যে কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার ধীরে ধীরে ক্ষয়ের লক্ষণ। কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই এই সংকট নয় একইসাথে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং মানসিক সমস্যাগুলিও ফুটে উঠেছে যা ইসরায়েলের সমস্ত বিভাগকে প্রভাবিত করেছে এবং সেনাবাহিনীকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংকটের মুখোমুখি করেছে।
কর্মকর্তার ঘাটতি এবং কমান্ডের সংকট
সঙ্কটের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি। সম্প্রতি হিব্রু গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোপন প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় ১,৩০০ জন মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা এবং ৩০০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কমান্ডারের ঘাটতির সম্মুখী; এই স্তরটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে স্থল অভিযানের মেরুদণ্ডের ভূমিকা পালন করে। কমান্ডার এবং অফিসারদের সাথে সম্পর্কিত সংকট প্রকট হয়ে ওঠার একই সাথে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অনেক রিজার্ভ সদস্য ঘোষণা করেছে যে তারা সেনাবাহিনীতে ফিরে যেতে চায় না এবং তাদের পরিবারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও প্রচণ্ড মানসিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক চাপের সাথে লড়াই করছে।
সামাজিক বিভাজন এবং হারেদির চাকরির সংকট
সামরিক ও মানসিক সংকটের পাশাপাশি, হারেদি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সামরিক চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে সামাজিক বিভাজন, অবিশ্বাস ও অসন্তোষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ বজায় রাখার ক্ষেত্রে, সামরিক চাকরির ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি একটি মৌলিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গাজা যুদ্ধ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে
গাজা যুদ্ধ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সংকটকে অন্য যেকোনো কারণের চেয়ে বেশি ত্বরান্বিত করেছে। উচ্চ হতাহত, দীর্ঘমেয়াদী বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি, গোয়েন্দা ব্যর্থতা, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে অক্ষমতা এবং অভূতপূর্ব অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত চাপ সেনাবাহিনীকে এমন একটি পরিস্থিতিতে ফেলেছে যেখানে "অজেয় সেনাবাহিনীর" ভাবমূর্তি ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল কিন্তু যুদ্ধ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকর সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য সংকটের কৌশলগত পরিণতি
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর উপর আস্থার পতন একটি বিপরীত চক্রে পরিণত হতে পারে; যেখানে অপারেশনাল ক্ষেত্রে যেকোনো দুর্বলতা সামাজিক বিভাজন এবং বাহিনীর উপর মানসিক চাপের তীব্রতা বৃদ্ধি করবে এবং সেইসাথে বিপরীতভাবে, এই চক্রের ধারাবাহিকতা আগামী বছরগুলিতে ইসরায়েলের সামরিক শক্তির পতনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে। এই সংকটের ধারাবাহিকতা ইসরায়েলি নিরাপত্তার জন্য অনেক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আজ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যা দেখা যাচ্ছে তা একটি সাধারণ ব্যবস্থাপনা সংকট নয় বরং একটি গভীর সামাজিক, সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক পতনের লক্ষণ যাকে অনেক বিশেষজ্ঞ "অস্তিত্বগত সংকট" বলে অভিহিত করেছন।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।