মার্কিন-ইসরাইলি মদদপুষ্ট দাঙ্গায় ইরানে ২,৪২৭ জন শহীদ: সরকারি তথ্য
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156328-মার্কিন_ইসরাইলি_মদদপুষ্ট_দাঙ্গায়_ইরানে_২_৪২৭_জন_শহীদ_সরকারি_তথ্য
পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত দাঙ্গা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
(last modified 2026-01-22T11:30:11+00:00 )
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ১৭:২৭ Asia/Dhaka
  • শহীদদের কফিন
    শহীদদের কফিন

পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত দাঙ্গা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে পরিচালিত 'পূর্ণমাত্রার নৃশংসতায়' নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ২,৪২৭ জন শহীদ হয়েছেন। দাঙ্গার সময় আরও ৬৯০ জন নিহত হয়েছে, ফলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,১১৭ জনে।

আল আলম টেলিভিশনের বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ফরেনসিক মেডিসিন সংস্থার প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনা নিষ্ঠুর ও হিংস্র তাকফিরি ও দায়েশ গ্রুপের অপরাধগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দাঙ্গায় নিহত ৩১১৭ জনের মধ্যে ২৪২৭ জন নিরপরাধ ইরানি নাগরিক শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদদের অনেকেই ছিলেন সাধারণ পথচারী, যারা সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া ও বর্বর গুলিবর্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন। কিছু শহীদ ছিলেন বিক্ষোভকারী, যারা সংগঠিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ৮ ও ৯ জানুয়ারি, যা নজিরবিহীন মাত্রার বর্বরতার প্রমাণ দেয়।

শহীদ ও ভেটেরান্স বিষয়ক ফাউন্ডেশনের পূর্ণ বিবৃতিটি নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 

“মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ শাহাদাৎবরণ করেছে এবং কেউ কেউ (শাহাদাতের) প্রতীক্ষা করছে। তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের সংকল্প পরিবর্তন করেনি।” (সূরা আল-আহযাব: ২৩)

১২ দিনের যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের হাত ধরে শত্রুদের বিশ্বাসঘাতক হাত আবারও একটি বড় অপরাধে লিপ্ত হয়েছে।

গভীর শোক ও বেদনাবিধুর হৃদয় নিয়ে জাগ্রত ইসলামী ইরানের জনগণকে জানানো যাচ্ছে যে, ফরেনসিক মেডিসিন সংস্থার প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনায় আমাদের প্রিয় ইরানের মোট ৩,১১৭ জন নিহতের মধ্যে ২,৪২৭ জন নিরপরাধ ও নিরীহ নাগরিক, যারা নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ জনগণের বিভিন্ন স্তরের লোক ছিলেন- শহীদ হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন। ইরানের জনগণ আজ একত্রে এই রক্তরঞ্জিত কাফনের শহীদদের পবিত্র ও নিরপরাধ প্রাণের জন্য শোক প্রকাশ করছে।

'কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হলো?' 

সত্যিই, ইরানের এই নিরপরাধ সন্তানরা কোন অপরাধে হত্যা করা হলো? প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের নিষ্ঠুরতা ও নির্দয়তায় অতুলনীয় তরুণদের পবিত্র রক্ত মাটিতে ঝরেছে। তাদের পবিত্র দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, টুকরো টুকরো করা হয়েছে, তাদের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং এমনকি তাদের নিষ্প্রাণ দেহের সাথেও দয়া দেখানো হয়নি।

অনেক শহীদ ছিলেন সাধারণ পথচারী, যাদের লক্ষ্যবস্তু করে অথবা সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া ও বর্বর গুলিবর্ষণে হত্যা করা হয়েছিল। কিছু শহীদ ছিলেন বিক্ষোভকারী, যারা সংগঠিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

এরা সবাই যুদ্ধের আট বছরের শহীদ এবং ইসলামী বিপ্লবের অন্যান্য শহীদদের মতো এই জাতির সন্তান এবং ইরানের জনগণের ভালোবাসা চিরকাল তাদের শহীদদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নিঃসন্দেহে ইরানি জাতি সেই সন্ত্রাসীদের—যারা অপরাধী জায়নবাদী ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধী নেতাদের সমর্থিত, সজ্জিত ও সশস্ত্র—এবং যারা ইরানি জাতির জীবন, সম্পদ ও পবিত্রতার বিরুদ্ধে কোনো নৃশংসতাই বাদ দেয়নি, তাদের কখনই ছাড় দেবে না। এই ভূখণ্ডের সন্তানদের হত্যাকারী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের তাদের অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

তিন ও পাঁচ বছর বয়সী নিরপরাধ শিশু এবং অন্যান্য পথচারী শিশুদের শহীদ করার বেদনা কীভাবে ভাষায় প্রকাশ করা যায়? তাদের হত্যাকারীদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করলে এই বর্বরতা ও অপরাধের ন্যায়বিচার হয়?

আমরা এই অপূরণীয় মর্মান্তিক ঘটনাটি ইমাম মেহদী (আ.), সর্বোচ্চ নেতা এবং এই নির্যাতিত ও সম্মানিত শহীদদের শোকগ্রস্ত পরিবারবর্গের প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আল্লাহর কাছে এই শহীদদের জন্য উচ্চ মর্যাদা কামনা করছি এবং এই অপরাধের হোতাদের ধ্বংস, লাঞ্ছনা ও অপমান কামনা করছি।

“যারা জুলুম করেছে, তারা শিগগিরই জানতে পারবে তারা কোন পরিণতির দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।” (সূরা আশ-শু'আরা: ২২৭)*

-ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ ও ভেটেরান্স বিষয়ক ফাউন্ডেশন

পার্সটুডে/এমএআর/২২