ইরানের নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণযান: “কায়েম ১২০” থেকে জিও কক্ষপথে যাত্রা
-
"কায়েম ১২০" উৎক্ষেপণযান
পার্সটুডে: ইরানের মহাকাশ কর্মসূচিতে দেশীয় উৎক্ষেপণযান (মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর রকেট) উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ জানিয়েছেন, বর্তমানে একাধিক উন্নত উৎক্ষেপণযান প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে শক্তিশালী রকেট প্রযুক্তি তৈরি এবং উচ্চ কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর সক্ষমতা অর্জন।
তিনি জানান, চলতি ফার্সি বছর (১৪০৪) ইরান সফলভাবে কয়েকটি উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। এসব উৎক্ষেপণ হয়েছে “কাসেদ”, “সিমোর্গ” এবং “যুলজানাহ” নামের দেশীয় উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে। এসব মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা ও উন্নয়ন।
ইরানি মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, সামনে আরও উৎক্ষেপণ পরিকল্পনায় রয়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ আরও দেশীয় উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
“কায়েম” উৎক্ষেপণযান পরিবারের উন্নয়ন
ইরান বর্তমানে “কায়েম” নামের একটি নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণযান পরিবার তৈরি করছে। এর মধ্যে প্রথম ছিল “কায়েম ১০০”। এই প্রকল্পের পর এখন একই পরিবারের আরও উন্নত সংস্করণ “কায়েম ১০৫” তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিমান ও মহাকাশ বাহিনী সরাসরি সহযোগিতা করছে।
এর পাশাপাশি আরও শক্তিশালী উৎক্ষেপণযান “কায়েম ১২০” তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই রকেটটি আগের মডেলগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ওজন বহন করতে পারবে। এটি নিম্ন কক্ষপথে (LEO) বড় আকারের উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম হবে এবং ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথেও (ডিম্বাকৃতি ট্রান্সফার অরবিট বা GTO পথে) পৌঁছাতে পারে।
এই প্রকল্পগুলোর আওতায় বিভিন্ন পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং উপ-কক্ষপথ (suborbital) পরীক্ষা শিগগিরই পরিচালিত হবে।
“সিমোর্গ” উৎক্ষেপণযানের উন্নয়ন
ইরানের পরিচিত উৎক্ষেপণযান “সিমোর্গ”-এরও আধুনিক সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। গত বছর এর উন্নত সংস্করণের প্রথম সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল এমন সক্ষমতা অর্জন করা, যাতে ভবিষ্যতে এই উৎক্ষেপণযান ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথের দিকে (GTO পথে) উপগ্রহ পাঠাতে পারে।
আগামী দিনে “সিমোর্গ”-এর আরও উৎক্ষেপণ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এই রকেটের কার্যকারিতা আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থায়ী করা যায়।
নতুন উৎক্ষেপণযান “ক্বাফনুস” প্রকল্প
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো “ক্বাফনুস” নামের নতুন উৎক্ষেপণযান। এই রকেটটি বিশেষভাবে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এটি নিম্ন কক্ষপথে আরও ভারী ও বড় আকারের উপগ্রহ বহন করতে পারে। এটি ভবিষ্যতের ইরানি মহাকাশ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জিও কক্ষপথে (৩৬ হাজার কিমি) পৌঁছানোর কৌশল
ইরানের মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, তারা সরাসরি এক ধাপে জিও কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর পরিবর্তে ধাপে ধাপে একটি কৌশল ব্যবহার করছে।
এই কৌশল অনুযায়ী:
শক্তিশালী উৎক্ষেপণযান ব্যবহার করে উপগ্রহ এবং একটি বিশেষ “অরবিটাল ট্রান্সফার ব্লক” (কক্ষপথ পরিবর্তনকারী ইউনিট) কে প্রথমে নিম্ন কক্ষপথে বা পার্কিং অরবিটে নেওয়া হবে। এরপর সেই ট্রান্সফার ব্লক সক্রিয় হয়ে উপগ্রহকে ধীরে ধীরে উচ্চ কক্ষপথে, অর্থাৎ GTO হয়ে জিও কক্ষপথের দিকে নিয়ে যাবে।
এই পুরো কর্মসূচি ইরানের মহাকাশ সংস্থা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিমান ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান ধাপে ধাপে এমন সক্ষমতা অর্জন করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে নিজস্ব প্রযুক্তিতে জিও কক্ষপথে যোগাযোগ, সম্প্রচার ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ পাঠানো সম্ভব হয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।