ইরান ইউরো-মার্কিন বলদর্পিতার কাছে নত হবে না: পেজেশকিয়ান
-
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
পার্সটুডে-ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন: বিশ্ববাসী দেখুক! ইরানি জনগণ তাদের বিপ্লব রক্ষা করতে, সরকারের আনুগত্য করতে এবং তাদের মূল্যবোধ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশজুড়ে রাস্তায় নেমে এসেছে।
ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে আরও জানায়, আজ বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন: আজ এমন একটি দিন যখন মানুষ নিপীড়ন, অত্যাচার এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে।
১৯৭৯ সালে ইরানি জাতির বিদ্রোহের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন: "ইরানি জনগণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইরানকে স্বাধীন করার জন্য জেগে উঠেছিল এবং বিশ্বকে দেখানোর জন্য যে ইরানি এবং মুসলিমরা তাদের নিজস্ব শক্তি, ইচ্ছাশক্তি, বিজ্ঞান এবং শিল্প দিয়ে তাদের দেশ গড়ে তুলতে এবং সম্মান ও স্বাধীনতা আনতে সক্ষম।
পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রুরা বিপ্লবের প্রথম দিন থেকেই বিভাজন এবং অভ্যুত্থানের মতো পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের নবজাতক বিপ্লবকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন: আমেরিকা এবং ইউরোপ আমাদের বিপ্লবকে ধ্বংস করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল। তারা আমাদের ওপর আট বছরের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল, সাদ্দামকে দিয়ে ইরানকে বিভক্ত ও পরাজিত করতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমাদের তরুণরা সাহসিকতার সাথে তাদের জীবন উৎসর্গ করে দেশ, সরকার এবং বিপ্লবকে রক্ষা করেছে।
তিনি আরও বলেন: আমাদের শহীদগণ দুনিয়া, অহংকার, ক্ষমতা এবং খ্যাতি খুঁজে জীবন উৎসর্গ করেছেন। মেজর জেনারেল বাকেরি এবং মেজর জেনারেল সালামি থেকে শহীদ সোলেইমানি পর্যন্ত সকল বীর শহীদ এই দেশ এবং জাতির জন্য বেনামে এবং প্রতীক হিসেবে তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
অতীতে একটি গোষ্ঠী দেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন ও দখল করেছিল এবং আজ তারা দেশ পরিচালনার ক্ষমতা দাবি করে-এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে পেশেজকিয়ান আরও বলেন: "দেশের গর্বিত শহীদদের নিজের জীবন ছাড়া আর কোনও মূলধন ছিল না, তারা মাতৃভূমির জন্য এবং এই দেশের গৌরবের জন্য সেই জীবনটুকু উৎসর্গ করেছিলেন।" প্রেসিডেন্ট বলেন: "এই শহীদদের শাহাদাত একটি দৃঢ় প্রমাণ যে শত্রুরা তাদের হত্যা করে যারা এই দেশের জন্য তাদের পুরো জীবন উৎসর্গ করতে ইচ্ছুক। তারা নিজেদের জন্য কিছু চায় নি।" শহীদদের জীবন তাদের জন্য এক বিরাট শিক্ষা যারা এই দেশের অর্থ লুট করেছে এবং আজ এই দেশকে ঠিক করার দাবি করছে।"
জনগণের কাছে ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
শত্রুরা তাদের মিডিয়া এবং আগ্রাসী শক্তির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজের মানসিকতাকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে-একথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন: রাষ্ট্রপতি হিসেবে, আমি ইরানি জাতির কাছে সমস্ত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ক্ষমা চাচ্ছি এবং ঘোষণা করছি যে ১৪তম সরকারে, আমরা শক্তি ও গুরুত্বের সাথে জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি এবং আল্লাহর সাহায্য ও শক্তি এবং বিপ্লবী নেতার বিজ্ঞ নির্দেশনায়, আমরা এই পথে সফল হব।
আগের যে-কোনো সময়ের চেয়ে আজ আমাদের ঐক্য ও সংহতি বেশি প্রয়োজন
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, আগামী গ্রীষ্মে গৃহীতব্য পদক্ষেপের ফলে আমাদের বিগত বছরের মতো সমস্যা থাকবে না। তিনি বলেন: "উন্নয়নের জন্য অন্য যে-কোনো কিছুর চেয়ে আমাদের ঐক্য এবং অভ্যন্তরীণ সংহতি বেশি প্রয়োজন। আমাদের যুবসমাজের হুমকি, ষড়যন্ত্র, বিচ্যুতি এবং প্রতারণার মুখে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।"
বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার অস্তিত্ব, ইরানের শক্তি
আজ "ঐক্য" আমাদের সমাজের খুব প্রয়োজন-এ বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন: "আজ আমাদের সমস্যা এবং বিভেদকে দূরে রাখার জন্য এবং জনগণের ঐক্যে এবং তাদের একটি স্পষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার জন্য আমাদের বিপ্লবী নেতার বিজ্ঞ নির্দেশনা প্রয়োজন। বিপ্লবের নেতার অস্তিত্ব এমন একটি শক্তি যা সকল সমস্যা সত্ত্বেও ক্ষমতার সাথে ব্যবস্থা এবং বিপ্লবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
আমরা জনগণের সাথে সংঘর্ষ চাই না: সরকার জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে প্রস্তুত
পেজেশকিয়ান বলেছেন, ৮ এবং ৯ জানুয়ারির ঘটনা ইরানি জনগণের হৃদয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন: আমরা জনগণের জন্য লজ্জিত এবং এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সকলের সেবা করতে নিজেদের বাধ্য বলে মনে করি। পুলিশ বাহিনী, আইআরজিসি, বাসিজ এবং এমনকি যারা জেনে বা না জেনে প্রতারিত হয়েছিল এবং এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল যা হওয়া উচিত ছিল না।#
পার্সটুডে/এনএম/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।