ইসরাইলকে টিকিয়ে রাখতে আমেরিকার নজিরবিহীন পদক্ষেপ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i20134-ইসরাইলকে_টিকিয়ে_রাখতে_আমেরিকার_নজিরবিহীন_পদক্ষেপ
দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলকে ৩,৮০০ কোটি ডলারের নজিরবিহীন সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে আমেরিকা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৬ ১৩:৫৭ Asia/Dhaka

দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলকে ৩,৮০০ কোটি ডলারের নজিরবিহীন সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে আমেরিকা।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সামরিক সহায়তার আওতায় প্রতিবছর ইহুদিবাদী ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলার করে দেয়া হবে। ১০ বছর ধরে এ সহায়তা দেয়া অব্যাহত থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে ইসরাইল ৩,৮০০ কোটি ডলার সহায়তা পাবে। এতদিন পর্যন্ত এই সহায়তার পরিমাণ ছিল ৩,১০০ কোটি ডলার।

আমেরিকা দখলদার ইসরাইলকে বছরে অফেরতযোগ্য প্রায় ৩,০০০ হাজার কোটি ডলার সাহায্য দেয়। কিন্তু মার্কিন সূত্রগুলোই বলছে, এ সহযোগিতার পরিমাণ আসলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার। মার্কিন রাজনীতিবিদ ও সিনেট নির্বাচনের সাবেক প্রার্থী মার্ক ড্যানকুফ বলেছেন, হোয়াইট হাউজ সামরিক খাত ছাড়াও অন্য আরো অনেক খাতে ইসরাইলকে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার সাহায্য দেয়। প্রকাশ্য কিংবা গোপনে আমেরিকা ইসরাইলকে অফেরতযোগ্য এসব অর্থ দিয়ে থাকে। আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপীয় দেশগুলোও দখলদার ইসরাইলকে প্রতিবছর অস্ত্র এবং কোটি কোটি ডলার নগদ সাহায্য দেয়। ইসরাইল এসব সাহায্যের বেশিরভাগই আমেরিকা ও ইউরোপের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার কাজে ব্যয় করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইল-মার্কিন সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে- অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন কর্মকর্তারা যেকোনো মূল্যে এ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রতিজ্ঞ। আমেরিকা এমন সময় ইসরাইলকে সর্বাত্মক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে যখন ইসরাইল এ অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ইসরাইলকে আমেরিকার নজিরবিহীন সামরিক সহায়তা দেয়ার অর্থ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সম্প্রসারণকামী নীতি বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন।

আমেরিকা ইসরাইলকে যে সাহায্য দিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তা সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ ইসরাইল হচ্ছে একটি আগ্রাসী শক্তি এবং অন্য দেশ দখল করে অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ধরনের একটি আগ্রাসী শক্তিকে অর্থ কিংবা অস্ত্র সাহায্য দেয়া আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন জনগণ ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন। এ অবস্থায় জনগণ চায় না তাদের দেয়া ট্যাক্সের অর্থ দখলদার ইসরাইলের জন্য ব্যয় করা হোক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার সাহায্যের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। অথচ বিভিন্ন দেশে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধের কারণে হোয়াইট হাউজ নিজেই তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। এ বছর আমেরিকার বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১০,৭০০ কোটি ডলার। এ অবস্থায় খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাও দখলদার ইসরাইলের পেছনে এত বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করার প্রচণ্ড বিরোধী। তারা মনে করেন, ইসরাইলকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আমেরিকা ইসরাইলের ঘৃণ্য কাজের শরীকে পরিণত হয়েছে এবং এর ফলে আমেরিকা বিশ্ব অঙ্গনে আরো বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।#

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৪