আরব দেশগুলোর উদাসীনতায় গ্যাস রপ্তানির সুযোগ নিচ্ছে ইহুদিবাদী ইসরাইল
ইহুদিবাদী ইসরাইল জর্দানের সঙ্গে ১,০০০ কোটি ডলারের গ্যাস রপ্তানি চুক্তি সই করেছে। ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইল আগামী ১৫ বছরে ভূমধ্য সাগরের লেভিয়াথান ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত ৪৫০০ কোটি ঘন ফুট গ্যাস জর্দানের কাছে বিক্রি করবে।
গত দুই বছর ধরে জর্দান ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের মধ্যে গ্যাস রপ্তানির বিষয়ে আলোচনা চলে আসছিল। ব্যাপক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত জর্দানের কাছে ইসরাইলের গ্যাস রপ্তানির খরব আজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হল। গত দুই বছরে ইসরাইলের সঙ্গে গ্যাস চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে জর্দানের মুসলিম জনগণ বহুবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তারা দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানিয়েছে।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, ইসরাইল ভূমধ্য সাগরের লেভিয়াথান ক্ষেত্র থেকে যে গ্যাস উত্তোলন করে জর্দানে রপ্তানি করার পদক্ষেপ নিয়েছে তা লেবাননের পানি সীমার মধ্যে অবস্থিত। অর্থাৎ ওই গ্যাসের মালিক লেবানন। এ কারণে লেবাননের কর্মকর্তারা ইসরাইলের ওই পদক্ষেপকে স্রেফ ডাকাতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও অবহেলার সুযোগে দখলদার ইসরাইল আমেরিকার সহায়তায় লেবাননের সমুদ্র সীমায় অবস্থিত তেল ও গ্যাস ফিল্ড থেকে জ্বালানি উত্তোলন শুরু করেছিল। শেষ পর্যন্ত ইসরাইল অবৈধভাবে উত্তোলিত গ্যাস জর্দানের কাছে রপ্তানি করা শুরু করেছে। একদিকে লেবাননের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও অবহেলা অন্যদিকে জর্দানের কর্মকর্তারা নিজ দেশের জনগণের প্রতিবাদ উপেক্ষা করার কারণে দখলদার ইসরাইল গ্যাস রপ্তানিকারকে পরিণত হয়েছে।
গ্যাস রপ্তানির ফলে ইসরাইল প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ঘটনায় বিশেষ করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পেয়ে যাবে। ইসরাইল খুব শিগগিরি এ অঞ্চলে অন্যতম বড় গ্যাস রপ্তানিকারকে পরিণত হতে যাচ্ছে। অথচ কিছুদিন আগেও ইসরাইল নিজের জন্য গ্যাস আমদানি করত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব দেশগুলো বিশেষ করে গাজা থেকে শুরু করে মিশর, লেবানন, সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। আর আমেরিকার রাজনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তি সহায়তা নিয়েই ইসরাইল এ অঞ্চলে লুটতরাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে আরব নেতাদের উদাসীনতা ও অবহেলার বিষয়টিও সমানভাবে দায়ী। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগেও আরব দেশগুলোর খামখেয়ালীপনা ও উদাসীনতার কারণেই ইসরাইল সমগ্র এ অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের জায়গা-জমি দখল করে নিজের অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছিল।
এ অবস্থায় আরব দেশগুলো বিশেষ করে লেবাননের উচিৎ দ্রুত অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ কাটিয়ে উঠে জাতীয় স্বার্থের দিকে নজর দেয়া যাতে পানি, তেল, গ্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলো কেউ লুট করতে না পারে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির উচিৎ সমস্ত শক্তিকে কাজে লাগানো। কারণ ইসরাইলের মতো একটি আগ্রাসী শক্তিকে মোকাবেলা করতে হলে অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতিকে জোরদার করা জরুরী। এর অন্যথায় শুধু লেবানন নয় সমগ্র ওই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৭