সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো; নস্যাৎ হলো পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্র
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i27616-সিরিয়ায়_যুদ্ধবিরতির_প্রস্তাবে_ভেটো_নস্যাৎ_হলো_পাশ্চাত্যের_ষড়যন্ত্র
সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোয় যুদ্ধবিরতির পশ্চিমা প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস হতে পারেনি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা ওই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। উগ্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে যখন শহরটি পুরোপুরি মুক্ত হতে চলেছে তখন মিশর, স্পেন ও নিউজিল্যান্ড অন্তত এক সপ্তাহের জন্য যেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ০৬, ২০১৬ ১৬:১৬ Asia/Dhaka

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোয় যুদ্ধবিরতির পশ্চিমা প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত পাস হতে পারেনি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনা ওই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন। উগ্র সন্ত্রাসীদের হাত থেকে যখন শহরটি পুরোপুরি মুক্ত হতে চলেছে তখন মিশর, স্পেন ও নিউজিল্যান্ড অন্তত এক সপ্তাহের জন্য যেখানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।

ভেনিজুয়েলাও ওই প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির আগে আমেরিকা সিরিয়া ইস্যুতে অসহযোগিতার জন্য রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে। জবাবে রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন বলেছেন, সিরিয়া ইস্যুতে আমেরিকার কখনো সুস্থির অবস্থান ছিল না।

সিরিয়ার আলেপ্পোয় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলোর অবস্থানের প্রতি কেউ আস্থা রাখতে পাচ্ছে না। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা পুনর্গঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের অতীত আচরণ থেকে এটাও স্পষ্ট যে, আমেরিকা আসলে সিরিয়ার আলেপ্পোয় প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না। তারা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদেরকে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিতে চায়।

কয়েক মাস আগে আমেরিকার মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় রাজি হলেও তা সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খান তুমান এলাকা দখলে নিয়েছিল। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস হলে এবারও ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা ছিল। কারণ সিরিয়ার সরকার-বিরোধী গোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকরা যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধের একটা সাময়িক কৌশল বলে মনে করে। তারা যুদ্ধবিরতির সুযোগে নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে সিরিয়ার সরকার ও জনগণের কাছ থেকে রাজনৈতিক ছাড় আদায়ের চেষ্টা করে।

আসলে যতদিন পর্যন্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি পাশ্চাত্যের দেশগুলোর সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না ততদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে কোনো লাভ নেই।

এ ক্ষেত্রে রাশিয়া একটি বিকল্প পন্থা অবলম্বনের ইঙ্গিত দিয়েছে আর তাহলো, সন্ত্রাসীদেরকে আলেপ্পো থেকে বের হওয়ার জন্য আলাদা পথ তৈরি করে দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। আলাদা পথ তৈরি করে দেয়ার পরও যারা সেখান থেকে বের হতে চাইবে না তাদেরকেই কেবল সন্ত্রাসী বলে বিবেচনা করা হবে এবং তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার আলেপ্পোয় এবারের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটি ছিল সেখানে সংঘাত জিইয়ে রাখার লক্ষ্যে আমেরিকার জটিল ষড়যন্ত্রের অংশ যা শেষ পর্যন্ত নস্যাৎ হয়ে গেছে।# 

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/৬