তুর্কি সামরিক আগ্রাসন ও হাশদ আশ-শাবি নিয়ে ইরাকি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i32848-তুর্কি_সামরিক_আগ্রাসন_ও_হাশদ_আশ_শাবি_নিয়ে_ইরাকি_প্রেসিডেন্টের_বক্তব্য
ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম বলেছেন, তার দেশে তুর্কি সেনা উপস্থিতি সামরিক আগ্রাসনের শামিল। একইসঙ্গে তিনি আল-হাশদ আশ-শাবি খ্যাত গণবাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন, এই বাহিনী না থাকলে কারবালাসহ ইরাকের একটি বিশাল অংশ দায়েশ দখল করে নিত।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭ ১৫:১১ Asia/Dhaka

ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম বলেছেন, তার দেশে তুর্কি সেনা উপস্থিতি সামরিক আগ্রাসনের শামিল। একইসঙ্গে তিনি আল-হাশদ আশ-শাবি খ্যাত গণবাহিনীর প্রশংসা করে বলেছেন, এই বাহিনী না থাকলে কারবালাসহ ইরাকের একটি বিশাল অংশ দায়েশ দখল করে নিত।

রাজধানী বাগদাদে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মাসুম তার দেশে তুর্কি সেনা অভিযানকে ‘আগ্রাসন ও ইরাকি সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন।  

ইরাকি প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তার দেশে তুরস্কের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরাক সরকার মারাত্মক ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে।  পর্যবেক্ষকদের মতে, তুর্কি সরকার নিজ দেশের বিভিন্ন সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ইরাকে সেনা পাঠিয়েছে।

২০১৫ সালের শেষ দিক থেকে ইরাকে শত শত সেনা পাঠাতে শুরু করে তুরস্ক। কুর্দি পিশমার্গা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অজুহাতে মসুল শহরের নিকটবর্তী বাশিকা ঘাঁটিতে এসব সেনা পাঠায় আঙ্কারা।  সে সময় বাগদাদ কঠোর ভাষায় এর প্রতিবাদ করে।  কিন্তু রজব তাইয়্যেব এরদোগান সরকার অনেকটা গায়ের জোরে ইরাকের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে।

অন্যদিকে ইরাকের গণবাহিনীকে ভেঙে দেয়ার জন্য আমেরিকা ও সৌদি আরবের প্রবল চাপ সত্ত্বেও বাগদাদ যে এই বাহিনীকে ব্যবহার করে দায়েশের বিরুদ্ধে জয়ী হতে চায় তা প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সম্প্রতি ইরাকের পার্লামেন্ট এই হাশদ আশ-শাবিকে ইরাকের সেনাবাহিনীর অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আইন পাস করে।  ইরাকের জনপ্রতিনিধিদের এ পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, দেশটিতে এই বাহিনীর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

ইরাক সরকার ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে হাশদ আশ-শাবি’সহ ইরাকের বিভিন্ন বাহিনীর সহায়তায় দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ শুরু করে।  কিন্তু ইরাকের ভেতরে ও বাইরে থেকে এই বাহিনীকে একটি ‘শিয়া বাহিনী’ হিসেবে তুলে ধরার অশুভ তৎপরতা শুরু হয়। একটি মহল প্রচার করতে শুরু করে, গণবাহিনীর হাতে মুক্ত এলাকাগুলোতে সুন্নি জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অথচ এই বাহিনীতে রয়েছে শত শত সুন্নি যোদ্ধা।  এ ছাড়া, সুন্নি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকাগুলো দায়েশের হাত থেকে মুক্ত করতে এই গণবাহিনী ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।  ঠিক এ কারণেই ইরাকের প্রেসিডেন্ট দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তার দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, জনগণের স্বার্থে নিজের অবস্থানে অটল থাকবে বাগদাদ এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপের কাছে ইরাক মাথানত করবে না।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১২