ইরাক ও সিরিয়ার পর সৌদি আরবের এবারের টার্গেট আফগানিস্তান
সৌদি আরব বহুদিন ধরে আফগানিস্তানে ওয়াহাবি মতবাদের বিস্তার ঘটানোর জন্য দেশটির নানগারহার প্রদেশে কথিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ওই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি যুবরাজরা এবার পুঁজি বিনিয়োগের নাম দিয়ে আফগানিস্তানকে টার্গেট করেছে।
আফগান প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ধনকুবের যুবরাজ ওয়ালিদ বিন তালাল কাবুল সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আশরাফ গনির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। ওই সাক্ষাতে তিনি আফগানিস্তানে পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ডিজনি, ফক্সনিউজ, জেনারেল মটরস্, টুইটারসহ আরো বড় বড় কোম্পানিতে পুঁজি বিনিয়োগকারী এই যুবরাজের আফগানিস্তানে উপস্থিতির বিষয়টি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সৌদি এই ধনকুবের আফগানিস্তানে কোনো উৎপাদন কিংবা শিল্পখাতে পুঁজি বিনিয়োগ করতে এসেছেন এমন ভাবাটা খুব কঠিন। তা ছাড়া, এ অঞ্চলের আরো অনেক দেশে সৌদি আরব যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং সেইসব অর্থ ঠিক কী কাজে লাগানো হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। সৌদি আরব পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় স্কুল বা মাদ্রাসার পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ধর্মের নামে বিকৃত ওয়াহাবি মতবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে উগ্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পেছনেও কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে সৌদি আরব। আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনও ছিলেন সৌদি যুবরাজ ও ব্যাপক অর্থবিত্তের মালিক। তিনিই আফগানিস্তানকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে পরিণত করেছিলেন।
সৌদি আরব গত কয়েক বছর ধরে দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে ইরাক ও সিরিয়ায় ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞে লিপ্ত রয়েছে। ইয়েমেনেও আগ্রাসন চালিয়ে তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু এতো কিছুর পরও ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশের পরাজয় এবং ইয়েমেন যুদ্ধে ব্যর্থতার কারণে এখন সৌদি আরব সন্ত্রাসীদেরকে নতুন ঘাঁটিতে স্থানান্তর ও তাদেরকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।
আফগান কর্মকর্তারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইরাক ও সিরিয়া থেকে পালিয়ে আসা দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে জাবুল ও নানগারহার প্রদেশসহ আরো কয়েকটি এলাকায় আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সৌদি আরব। সেখানে সন্ত্রাসীদের জন্য বাড়িঘর তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় সৌদি যুবরাজ ওয়ালিদ বিনা তালালের আফগানিস্তান সফর সন্দেহজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আফগান জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি জামাল ফাকুরি সম্প্রতি বলেছেন, সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে চায় কারণ সৌদি শাসকরা শুধু আফগানিস্তান নয় একই সঙ্গে পাকিস্তানসহ আরো বহু দেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনে যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে তার জন্য সৌদি আরব দায়ী। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২৯