রহস্যজনকভাবে কমছে সৌদি আরবের বৈদেশিক সম্পদ
সৌদি আরবের বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ রহস্যজনকভাবে কমতে শুরু করেছে এবং চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটির বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ কমেছে ৩,৬০০ কোটি ডলার। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জড়িত কূটনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদদের কাছে বিষয়টি একটি ধাঁধাঁর সৃষ্টি করেছে।
রিয়াদের বাজারের প্রতি আস্থার ক্ষেত্রে মারাত্মক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে একে। দুবাইয়ের বৃহত্তম ব্যাংক এনবিডি’র আঞ্চলিক গবেষণা বিভাগের প্রধান খাতিজা হক বলেছেন, রফতানি রাজস্ব কমার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত নয়। সৌদি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ইয়েমেন আগ্রাসনের ব্যয় মেটাতে গিয়ে এ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলায় প্রতিবছর সৌদি আরবের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার। তবে কেউ কেউ একে তেমন বড় অংকের ব্যয় হিসেবে গণ্য করছেন না।
অনেকে মনে করছেন, সৌদি থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করে নেয়ায় দেশটির রিজার্ভে টান পড়ছে। কিন্তু দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সৌদি অ্যারাবিয়ান মনিটরিং অথরিটি বা এসএএমএ’র দেয়া উপাত্তের সঙ্গে এ বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
আর্থিক সংকট কাটানোর চেষ্টা হিসেবে সৌদি আরব কোনো কোনো বৈদেশিক সম্পদকে সরাসরি নগদ অর্থে রূপান্তর করেছে। কিন্তু সে হিসাব আমলে নিয়েও দেশটির বৈদেশিক সম্পদ কমার সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায় না।
এদিকে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে কমে যাওয়ায় সৌদি বৈদেশিক মুদ্রাসহ বৈদেশিক সম্পদের ওপর চাপ আবার বাড়বে। চলতি বছরের প্রথম চার মাস জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৫৪.৫৭ ডলার কিন্তু বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের গড় দামের তুলনায় মাত্র ১ ডলার বেশি রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৮