দায়েশের পতনের পরও ইরাকে সেনা মোতায়েন রাখার চেষ্টা করছে আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i41472-দায়েশের_পতনের_পরও_ইরাকে_সেনা_মোতায়েন_রাখার_চেষ্টা_করছে_আমেরিকা
উগ্র তাকাফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কবল থেকে ইরাকের মসুল শহর উদ্ধারের পর এখন ওই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাস মুক্ত করার অভিযান চলছে। আর সেই সঙ্গে দায়েশ তার শেষ মুহূর্তের নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। দায়েশ ইরাক থেকে বিতাড়িত হওয়ার পথে থাকলেও এ পর্যায়ে আমেরিকার নতুন ষড়যন্ত্রের প্রতি সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। দায়েশ আইএসআইএল কিংবা আইএসআইএস নামেও পরিচিত।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ০৪, ২০১৭ ১০:৪৯ Asia/Dhaka

উগ্র তাকাফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের কবল থেকে ইরাকের মসুল শহর উদ্ধারের পর এখন ওই এলাকাকে পুরোপুরি সন্ত্রাস মুক্ত করার অভিযান চলছে। আর সেই সঙ্গে দায়েশ তার শেষ মুহূর্তের নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। দায়েশ ইরাক থেকে বিতাড়িত হওয়ার পথে থাকলেও এ পর্যায়ে আমেরিকার নতুন ষড়যন্ত্রের প্রতি সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। দায়েশ আইএসআইএল কিংবা আইএসআইএস নামেও পরিচিত।

মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত যুদ্ধের কথা বলে নানা উপায়ে আমেরিকা ইরাকে তাদের সেনা মোতায়েন রাখার পায়তারা করছে। এ ব্যাপারে ইরাকিদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ইরাকের ইসলামী উচ্চ পরিষদের সচিব আম্মার হাকিম বলেছেন, দায়েশের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর সেদেশে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি কিংবা একটি সেনার উপস্থিতিও মেনে নেয়া হবে না। গত ২৯শে জুন ইরাকের সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী দায়েশের দখল থেকে আন নুরি মসজিদ উদ্ধারের মাধ্যমে মসুল উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘটায়। দায়েশ নেতা আবু বকর আল বাগদাদি এই মসজিদ থেকেই তথাকথিত ইসলামি খেলাফতের ঘোষণা দিয়েছিল। ইরাকিরা এখন মসুলের পুরানো এলাকা থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া দায়েশকে পুরোপুরি বিতাড়িত করে বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজয়ের পেছনে সেদেশের সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশত আশ্‌ শাআবি সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। কেবল নিজেদের শক্তি সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে তারা এতো বড় বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। ইরাকিরা এমন সময় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করল যখন এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে বলে দাবি করতেন। দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার ষড়যন্ত্র এবং তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তারা আসলে দায়েশের পতন চায় না এবং এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কেবল নিজের স্বার্থে ইচ্ছে মতো ব্যবহার করতে চায়।

লেবাননের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাসের কানদিল দৈনিক আল আম্বিয়াকে দেয়া সাক্ষাতকারে দায়েশ সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মসুল উদ্ধার পরবর্তী ইরাকের ভবিষ্যত সম্পর্কে বলেছেন, দায়েশের পতনের পর ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতির পক্ষে আমেরিকার আর কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। তিনি বলেন, দায়েশ বিরোধী যুদ্ধের এক সময় অবসান ঘটবে এবং এরপর সেই যুদ্ধের কৌশল হবে ভিন্ন ধরণের। তাই এই দুই দেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতিরও আর কোনো প্রয়োজন নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের পরাজয় মানেই আমেরিকারও পরাজয়। এ অবস্থায় মার্কিন কর্মকর্তারা ইরাকে হস্তক্ষেপ ও সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য নতুন নতুন কৌশল আটছে। অথচ ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ফলে সেদেশে হত্যা, ধ্বংস ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের মতো নেতিবাচক পরিণতি ছাড়া আর কিছু বয়ে আনেনি। ইরাকের জনগণ এখনো মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশের ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার। একদিকে মার্কিন হামলা অন্যদিকে দায়েশের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ইরাকের হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরাকের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, সেদেশের তেল ক্ষেত্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। #  

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৪