ইরাক ও সিরিয়ায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে আইএস; অস্তিত্ব রক্ষায় মার্কিন অপচেষ্টা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i48466-ইরাক_ও_সিরিয়ায়_নিশ্চিহ্ন_হওয়ার_পথে_আইএস_অস্তিত্ব_রক্ষায়_মার্কিন_অপচেষ্টা
ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এ পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পৃষ্ঠপোষকদের সর্বশেষ প্রচেষ্টা চলছে। সিরিয়ার বুকামালে দায়েশ বা আইএস'র পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়টি সবার সামনে আরও স্পষ্ট হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১৬, ২০১৭ ১৪:১৩ Asia/Dhaka

ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। এ পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পৃষ্ঠপোষকদের সর্বশেষ প্রচেষ্টা চলছে। সিরিয়ার বুকামালে দায়েশ বা আইএস'র পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিষয়টি সবার সামনে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সিরিয়া ও ইরাকে দায়েশ সন্ত্রাসীদের সহযোগী দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে আমেরিকা। এতদিন তারা রাখঢাক রেখে সহযোগিতা করলেও এখন তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সিরিয়ায় দায়েশের সর্বশেষ ঘাঁটি বুকামাল মুক্ত করার অভিযান শুরু হওয়ার পর সন্ত্রাসীদের পালাতে সহযোগিতা করেছে মার্কিন বাহিনী। বহু সন্ত্রাসীকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলেও খবর বেরিয়েছে।

বুকামাল থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদেরকে নতুন করে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সিরিয়ায় দায়েশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় আমেরিকা। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে বুকামালের পতনের পর দেশটিতে দায়েশ কার্যত অস্তিত্বহীন হওয়ার পথে। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা দায়েশের জন্য লজিস্টিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এর ফলে দায়েশ সন্ত্রাসীরা বুকামালের আশেপাশের এলাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পাবে বলে কেউ কেউ ধারণা করছে।

বুকমালে সিরিয়ার পতাকা হাতে কয়েকজন সেনা

বুকমাল শহরটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হোক আমেরিকা তা চায় না। কারণ বুকমাল হচ্ছে একটি কৌশলগত শহর। ইরাক সীমান্তবর্তী এ শহরটি তেলসমৃদ্ধ এবং এ শহরের মাধ্যমে ফোরাত নদী ইরাকে মিলিত হয়েছে। বুকামাল ও এর আশেপাশের এলাকা পুরোপুরি সন্ত্রাসীমুক্ত হলে ইরাকও লাভবান হবে। বুকামালের ওপর সরকারি বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রেরও ইতি ঘটবে বলে মনে করা হয়। 

বুকমাল শহরে সিরিয় বাহিনীর বিজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা দায়েশের কমান্ডারদের পালাতে সহযোগিতা করে। কারণ সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পরাজিত হওয়ার পর দায়েশ সন্ত্রাসীদের কমান্ডারেরা বুকামালে এসে সমবেত হয়েছিল। বুকামালের পতনের মাত্র এক সপ্তাহ আগেই আরেক কৌশলগত শহর দেইর আয-যোর সন্ত্রাসীমুক্ত হয়। 

যাইহোক বুকমালে দায়েশের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী যেসব তৎপরতা চালিয়েছে তাতে ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রতি আমেরিকার সমর্থনের বিষয়টি আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আইএস ও আইএসআইএল নামেও পরিচিত। খোদ মার্কিন সরকার এ গোষ্ঠী সৃষ্টির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে এর আগে  আমেরিকার কোনো কোনো কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন। মুসলিম বিশ্বকে আরও দুর্বল করতেই ওই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টি করে আমেরিকা। এ কারণে এরইমধ্যে সিরিয়া ও ইরাকসহ বহু মুসলিম দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

অবশ্য শেষ পর্যন্ত সিরিয়া ও ইরাকের প্রতিরোধকামী মানুষের সংগ্রামের কারণে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়েশের জন্মদাতা আমেরিকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ প্রচেষ্টা চালালেও তা কাজে আসবে না। কারণ এরইমধ্যে সন্ত্রাসীদের মূল শেকড় পচে গেছে। পচা শেকড়ে পানি ঢালার মাধ্যমে আমেরিকা এখন কেবল নিজের ঘৃণ্য চেহারাকেই আরও বেশি সামনে এনেছে।

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/১৬