জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া নিয়ে কি চায় আমেরিকা?
সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে যখন দেশটির সেনাবাহিনী মিত্রদের সহযোগিতায় একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে তখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কিছু সদস্যদেশ এই সাফল্যকে ম্লান করে দিতে চেয়েছিল; কিন্তু তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
রাশিয়া বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া বিরোধী একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। এই নিয়ে ২০১১ সালে সিরিয়া সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দশমবারের মতো সিরিয়া বিরোধী প্রস্তাব আটকে দিল মস্কো। সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার তদন্ত করার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমেরিকা জাতিসংঘের যৌথ তদন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়ানোর যে প্রস্তাব তুলেছিল তা পাস হতে দেয়নি রাশিয়া।
সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের খান শেইখুন শহরে গত ৪ এপ্রিল রাসায়নিক গ্যাস হামলায় বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়। ওই ঘটনার তদন্তে জাতিসংঘ এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার উদ্যোগে যে যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল সেটি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ওই হামলার জন্য সিরিয়া সরকারকে দায়ী করে। রাশিয়ার ভেটোর ফলে ওই কমিটির সেই একতরফা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কার্যক্রমের পরিসমাপ্তি ঘটল।
জাতিসংঘের যৌথ তদন্ত কমিটি এমন সময় খান শেইখুনের হামলার জন্য সিরিয়া সরকারকে দায়ী করেছে যখন দামেস্ক বহুবার ওই হামলায় নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। রাশিয়াও একাধিকবার বলেছে, জাতিসংঘের যৌথ কমিটি যেসব তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সেগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এ সম্পর্কে সম্প্রতি বলেছেন, যৌথ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন স্ববিরোধী কথায় ভরপুর এবং এমনসব ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করে তা তৈরি করা হয়েছে যারা কোনো নির্ভরযোগ্য মানুষ নন।
সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশ মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই প্রদেশের খান শেইখুনের রাসায়নিক হামলা নিয়ে পশ্চিমারা এমন সময় জাতিসংঘের যৌথ তদন্ত কমিটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে যখন যুদ্ধের ময়দানে সিরিয়ার সেনাবাহিনী সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে একের পর এক বিজয় অর্জন করে যাচ্ছে।
সিরিয়া, ইরান, রাশিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাকে সংকীর্ণ করে ফেলা হয়েছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এখন দেশটির শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সর্বশেষ বিজয় এসেছে ইরাক-সিরিয়া সীমান্তবর্তী আল-বুকামাল শহরে। সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর এই সাফল্যকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও তার মিত্রদের বড় ধরনের অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ার সেনাবাহিনীর এই সাফল্য স্বাভাবিকভাবেই সহজভাবে নিতে পারছে না। তাই তারা জাতিসংঘের যৌথ তদন্ত কমিটিকে দিয়ে সিরিয়ায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।
আমেরিকার উদ্যোগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে রাশিয়া ভেটো দেয়ার পর জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার আল-জাফারি বলেছেন, মার্কিন সরকার সিরিয়ায় নিজের ধ্বংসাত্মক লক্ষ্য হাসিল করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
সিরিয়ায় আমেরিকার ধ্বংসাত্মক নীতি শুধু জাতিসংঘকে ব্যবহারের চেষ্টার মধ্যে সীমিত নেই। সেইসঙ্গে আমেরিকা সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং দেশটিতে তৎপর দায়েশ সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করছে।
আল-বুকামাল শহরে দায়েশকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলার কাজে আমেরিকার বাধা প্রদান, সিরিয়াকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলার লক্ষ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলে সেনা মোতায়েন করে রাখা এবং জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস করে সিরিয়াকে চাপের মধ্যে রাখার কৌশল এই সুতায় গাঁথা বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৭