কুয়েতে ইসরাইল বিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলন রিয়াদসহ ইহুদিবাদের দোসরদের কী বার্তা দিচ্ছে?
-
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ্য ও আরো ঘনিষ্ঠ করতে চান সৌদি যুবরাজ সালমান
ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর সম্পর্ক প্রতিরোধ সংক্রান্ত কুয়েতের আন্তর্জাতিক-সম্মেলন ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী ও তার দোসরদের একঘরে এবং কলঙ্কিত করেছে।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার অন্যতম সদস্য ইজ্জাত আররাশ্ক এই মন্তব্য করেছেন।
ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত কুয়েতি নাগরিক আন্দোলন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী কাতারের যুব আন্দোলন ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের বিরোধী বাহরাইনি একটি দলের সম্মিলিত উদ্যোগে কুয়েতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলো ইসরাইলের নানা প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে আসছে এবং এইসব প্রতিনিধি দলকে ব্যাপক আতিথেয়তাও দিয়ে আসছে। আঞ্চলিক নানা সম্মেলন বা বৈঠক এবং খেলাধুলা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক নানা তৎপরতার নামে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মাখামাখি আচরণ করে এসেছে কয়েকটি অগণতান্ত্রিক আরব সরকার।
ইসরাইলের সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় আরব রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী এই সম্মেলন ইসরাইল ও তার আরব দোসরদের জন্য একটি কড়া হুঁশিয়ারি সংকেত এবং কঠোর জবাব। এই আরব রাজা-বাদশাহরা ইসরাইলকে মুসলিম ও আরব বিশ্বের স্থায়ী সদস্য করার জন্য কোমর-বেধে কাজ করছে। তারা দেখাতে চায় যে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল কোনো সন্ত্রাসী বা অবৈধ রাষ্ট্র নয়, বরং একটি বৈধ, সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র!
কিন্তু ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর সম্পর্কের বিরোধিতার জন্য কুয়েতের মত দেশে বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন এ অঞ্চলে ইসরাইলি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। অন্য কথায় পারস্য উপসাগরীয় কোনো আরব দেশে এই প্রথম এ ধরনের সম্মেলন অনুষ্ঠানের ফলে এ অঞ্চলের ইসরাইলমুখি প্রবণতা মারাত্মকভাবে হোঁচট খেলো।
এ প্রসঙ্গে ইসরাইলকে একঘরে করার জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক আন্দোলন বিডিএস-এর কথা উল্লেখ করা যায়। বিডিএস (Boycott, Divestment, Sanctions) বলতে ইসরাইলকে বয়কট, সেখানে পুঁজি-বিনিয়োগ নিষিদ্ধ ও ইসরাইলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাকে বোঝায়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে নানা পন্থায় ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে সক্রিয় এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য হল ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর বৈষম্য বন্ধ করা ও কয়েক মিলিয়ন ফিলিস্তিনির স্বদেশে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা।
ইসরাইল-বিরোধী কুয়েত সম্মেলনকে পারস্য-উপসাগরীয় আরব অঞ্চলেও বিডিএস-ধাঁচের আন্দোলন শুরুর পর্যায় বলে মনে করা যায়।
কুয়েত সরকারের ওপর সৌদি সরকারের ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সেখানে ইসরাইল বিরোধী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের অর্থ হল মধ্যপ্রাচ্যের বিষাক্ত ক্যান্সার হিসেবে কুখ্যাত ইসরাইলকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার সৌদি অপচেষ্টার মুখে বড় ধরনের চপেটাঘাত।
এটা স্পষ্ট যে মুসলমানদের প্রথম কিবলার দখলদার এবং গণহত্যা ও শিশ-হত্যায় অভ্যস্ত বর্ণবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে আরব জনমতসহ বিশ্ব-জনমত। তাই এই ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে আপোষ করার সৌদি খাহেশ গণমুখী নানা আন্দোলন, এনজিও এবং পেশাজীবী ও ধর্মীয় সংস্থাগুলোর তীব্র বাধার মুখে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক এবং তা সময়েরও একান্ত দাবি।
এটা স্পষ্ট বিশ্বব্যাপী ইসরাইল-বিরোধী ক্রমবর্ধমান ঘৃণা ও ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আরব দেশগুলোকে ইসরাইল-প্রেমী করার সৌদি প্রচেষ্টা আলে-সৌদ শাসকগোষ্ঠীর জন্য বিশ্ব-অঙ্গনে আরও একটি বড় কলঙ্ক এবং গণ-বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এটা সবাই জানে যে শুয়োরের গলায় মুক্তোর মালা দানকারী কখনও প্রশংসা পায় না, বরং নিন্দা ও কলঙ্কের পাত্র হয়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/১৯