এবারও ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশে ব্যর্থ হয়েছে আমেরিকা
আমেরিকা ইয়েমেনে তাদের অপরাধযজ্ঞ ঢাকার জন্য নতুন করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরান বিরোধী অভিযোগ তুলে বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু এবারও তারা ব্যর্থ হয়েছে। ব্রিটেনের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন দিয়ে আমেরিকা ইয়েমেনে তাদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করলেও রাশিয়ার ভেটো দেয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
লন্ডনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বাইদি নেজাদ টুইট বার্তায় বলেছেন, আমেরিকার তিনটি লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমত, ইয়েমেন বিরোধী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। এবং তৃতীয়ত, নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরান বিরোধী নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া।
ইয়েমেনের সেনাবাহিনী গত নভেম্বর মাসে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের কাছে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ তোলে পাশ্চাত্যের দেশগুলো। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি গতমাসে কিছু ভাঙাচোরা অস্ত্রের টুকরা দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, এসব অস্ত্র ইরানই ইয়েমেনকে সরবরাহ করেছে। কিন্তু তার ওই দাবির কয়েক ঘন্টা পরই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে নিকি হ্যালির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
আমেরিকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সংস্থার প্রধান দারিল কিম্বাল টুইটার বার্তায় বলেছেন, "হোয়াইট হাউজ যদি মনে করে থাকে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে ইরানের ভূমিকার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে তাহলে তারা বোকামি করবে।"
আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, পাশ্চাত্যের দেশগুলোই বছরের পর বছর ধরে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে অস্ত্র যুগিয়েছে। পাশ্চাত্যের দেয়া নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরব ইয়েমেনের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদে ভাঙা অস্ত্রের প্রদর্শনী করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঘৃণ্য কাজ করেছেন। তার ওই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হচ্ছে ইয়েমেনে আগ্রাসী দেশের প্রতি সমর্থন জানানো।
ইয়েমেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান রাজনৈতিক উপায়ে এ সমস্যা সমাধানের কথা বলে আসছে। এ লক্ষ্যে ইরান চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, মানবিক ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো, ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমেরিকা যুদ্ধ ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই চায় না। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮