মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর: নিরাপত্তার মূল্য নিতে এসেছেন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i56518-মার্কিন_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_সৌদি_আরব_সফর_নিরাপত্তার_মূল্য_নিতে_এসেছেন
আমেরিকার নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখন সেদেশ সফর করছেন। এটাই তার প্রথম সৌদি সফর।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
এপ্রিল ২৯, ২০১৮ ১৩:২৯ Asia/Dhaka

আমেরিকার নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখন সেদেশ সফর করছেন। এটাই তার প্রথম সৌদি সফর।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে তিনি সৌদি আরব গেলেন। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের পর দু'দেশের মধ্যকার সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নেয়াই তার এ সফরের উদ্দেশ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর থেকে বোঝা যায় দেশটির মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে সৌদি আরবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

গত এক বছরে সৌদি আরবের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি অবস্থান থেকে বোঝা যায়, কেবল অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যই তিনি সৌদি আরবকে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প নিজেও একজন ব্যবসায়ী হওয়ায় অর্থনৈতিক স্বার্থ ভালোই বোঝেন। এ কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশটির সঙ্গে কোটি কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র চুক্তি করেন। চুক্তি সইয়ের পর তিনি সৌদি যুবরাজদের সঙ্গে তলোয়ার নাচে অংশগ্রহণ করেন। ট্রাম্প সন্তুষ্ট চিত্তে ওয়াশিংটন ফিরে রিয়াদ সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ অভিহিত করে কেবল তিনটি শব্দই উচ্চারণ করেন আর তা হল চাকরি-চাকরি-চাকরি। কারণ এই চুক্তি বহু সংখ্যক মার্কিন নাগরিকের চাকরির সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক রিয়াদ সফরের প্রায় এক বছর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতার খরচ আদায় করার জন্য রিয়াদ সফরে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছুদিন আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে সামরিক হামলার ব্যয়ভার ধনী আরব দেশগুলোকে বহন করতে হবে। তিনি অত্যন্ত অবমাননাকর ভাষায় বলেছেন, আমেরিকার সহযোগিতা ছাড়া আরব সরকারগুলো এক সপ্তাহও টিকবে না। গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধনী দেশ বলতে সৌদি আরব, আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারকেই বুঝিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আতিক জারাল্লাহ বলেছেন, "ইরানের প্রভাব ঠেকানোর জন্য সৌদি আরবকে হয়তো বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। কিন্তু আমেরিকার হুমকি ও অজুহাতের কখনো শেষ হবে না এবং মার্কিন সরকার ফের ইরানকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে।"

যাইহোক, সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাত করবেন এবং ধারণা করা হচ্ছে এসব সাক্ষাতে তিনি ইরান ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরণের ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেবেন। সেই সঙ্গে ইরান বিরোধী তৎপরতার খরচও আদায় করে নেবেন। এ ছাড়া, মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে স্থানান্তরের বিষয়েও কথাবার্তা হবে বলে জানা গেছে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৯