ইয়েমেনে আগ্রাসন জোরদার: জাতিসংঘের মাধ্যমে হুদায়দা বন্দর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বার বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ প্রতিনিধি মার্টিন গ্রিসফিত্সের সানা ও হুদাইদা সফরের পর ইয়েমেনে সৌদি হামলা বেড়েছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে শত্রুরা শান্তি আলোচনার ব্যাপারে মোটেও আন্তরিক নয়।
এদিকে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছোট ভাই এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত খালেদ বিন সালমান এক টুইট বার্তায় দাবি করেছেন ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের সর্বোত্তম পথ হচ্ছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত সপ্তাহে দাবি করেছিল তারা ইয়েমেনের ব্যাপারে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে এবং ওই দেশটিতে আর হামলা চালানো হবে না। আগামী ডিসেম্বরে সুইডেনে সংলাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু এ ঘোষণার পরও গত কয়েক দিনে বহুজাতিক বাহিনী হামলা আগের চেয়ে জোরদার করেছে। তারা হুদায়দা বন্দর এলাকা ও এর আশেপাশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বিমান, মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সেখানে রক্তের নদী বইয়ে দিয়েছে। হামলা যখন চলছে তখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, ওই এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা বন্ধ রয়েছে এবং কেবল বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ চলছে যাকিনা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। একদিকে তারা যুদ্ধ চলছে না বলে দাবি করছে অন্যদিকে ব্যাপক হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে। এভাবে মিথ্যা প্রচারণার আড়ালে ইয়েমেনিদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে বলে সৌদি আরব মনে করছে।
ইয়েমেনের ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধ এতো সহজে থামবে না এবং এ যুদ্ধকে সৌদি আরব ও আমেরিকা আসন্ন আলোচনার টেবিলে আরো বেশি সুবিধা বা ছাড় আদায় করে নেয়ার জন্য ইয়েমেনিদের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত জুনে ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ হুদায়দা বন্দর দখল করে নেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল। এরপর ফের তারা হুদায়দা দখলের জন্য সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দফা আগ্রাসন চালায়। কিন্তু সেবারও ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে তারা চরমভাবে পরাজিত হয়। সর্বশেষ ইয়েমেন সংকট নিরসনের জন্য জাতিসংঘ প্রতিনিধি ব্যাপক চেষ্টা চালালেও নতুন করে সৌদি আগ্রাসন জোরদার হওয়ায় শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের কর্মকর্তা আলী আল কাহওয়াম বলেছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতায় আমেরিকা ইয়েমেনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে। তিনি বলেন, হামলা বেড়ে যাওয়া থেকে বোঝা যায় তারা সংঘাতের অবসান চায় না এবং ইয়েমেন ইস্যুতে আমেরিকা দ্বিমুখী আচরণ করছে।
যাইহোক, ইয়েমেনকে কব্জা করতে সৌদি যুবরাজের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং বর্তমানে জাতিসংঘ সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকাণ্ডে রিয়াদের ইচ্ছারই প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা হুদায়দা বন্দর এলাকা দখল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন জাতিসংঘ ওই এলাকায় বন্দর পরিচালনার অজুহাতে তাদের উপস্থিতি জোরদারের চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সামরিক উপায়ে ইয়েমেন দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সৌদি আরব ও আমেরিকা এখন জাতিসংঘকে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৮
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন