সুইডেন-বৈঠক ইয়েমেনে সৌদি জোটের ব্যর্থতার আরও এক সাক্ষ্য
ইয়েমেনের সংঘাত অবসানের বিষয়ে দেশটির নানা পক্ষের চতুর্থ শান্তি আলোচনা গতকাল (বৃহস্পতিবার) শেষ হয়েছে।
জাতিসংঘ-মহাসচিবের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথসের সভাপতিত্বে গত ৬ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এই আলোচনা শুরু হয়েছিল।
আলোচনার শেষ দিনে ইয়েমেনের পক্ষগুলো জাতিসংঘের নজরদারিতে হুদাইদা প্রদেশে যুদ্ধ-বিরতি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে যাতে এই বন্দর দিয়ে দেশটিতে মানবিক ত্রাণ সাহায্য পৌঁছানো যায়।
ইয়েমেনের সাম্প্রতিক শান্তি-আলোচনাকে মার্কিন সরকারের শান্তিকামিতার নাটকের ফসল বলা যায়। সৌদি ভিন্ন-মতাবলম্বী সাংবাদিক খাশোগি নিহত হওয়ার পর ইয়েমেনে মার্কিন মদদপুষ্ট সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন বন্ধের জন্য বিশ্ব-জনমতের চাপ বাড়তে থাকায় মার্কিন ও সৌদি সরকার দেখাতে চেয়েছে যে তারা ইয়েমেনে শান্তি চায়।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের গণহত্যা ও খাশোগী হত্যার দায় থেকে মার্কিন ও সৌদি সরকারকে মুক্ত করার জন্য এই শান্তি-আলোচনাকে প্রদর্শন করতে চেয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু মার্কিন সরকারের আসল লক্ষ্য হল কথিত শান্তিকামিতার নাটক সাজিয়ে ইয়েমেনে সৌদি জোটের অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যেতে সবুজ-সংকেত দেয়া। তাই দেখা গেছে এই শান্তি আলোচনা চলার সময়েই ইয়েমেনে নির্বিচার বোমা বর্ষণ জোরদার করেছে সৌদি জোট।
সৌদি সরকারের কাছে বিপুল মারণাস্ত্র ও নিষিদ্ধ বোমা বিক্রি করে আসছে মার্কিন সরকার। আর এসব অস্ত্র সৌদি সেনারা ব্যবহার করছে ইয়েমেনের চলমান গণহত্যায়।
সুইডেনের শান্তি আলোচনার বিষয়ে মার্কিন সরকার ও সৌদি জোটের আচরণ থেকে বোঝা যায় এই আলোচনায় ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যেসব রাজনৈতিক ও মানবিক সাফল্য অর্জন করেছে তাতে তারা সন্তুষ্ট নয়। তাই এ আলোচনায় অর্জিত সমঝোতাগুলো বাস্তবায়নে বাধা দেবে সৌদি-মার্কিন জোট।
সুইডেনের এই শান্তি-আলোচনার সমঝোতা আনসারুল্লাহর চার বছরের প্রতিরোধ ও এক সপ্তা'র আলোচনার সাফল্যকেই তুলে ধরছে। এই সাফল্য বিশ্ববাসীর কাছে এটা প্রমাণ করছে যে ইয়েমেনের সংকটের সমাধান কেবল রাজনৈতিক উপায়েই হতে পারে। অথচ চার বছর আগে যুদ্ধ শুরুর সময় সৌদি সরকার বলেছিল, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সরকারের পতন ঘটবে মাত্র তিন সপ্তা'র মধ্যেই এবং আমিরাত সরকার হুদাইদা বন্দরের পতন ঘটানোর অঙ্গীকার করেছিল। সৌদি জোট সেইসব ব্যর্থতা ও পরাজয়কে সুইডেন-আলোচনায় রাজনৈতিক দরকষাকষির মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবে বলে ভেবেছিল। কিন্তু এখানেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।
আনসারুল্লাহ যে ইয়েমেনের একটি বৈধ রাজনৈতিক পক্ষ সুইডেনের এ আলোচনায় ইয়েমেনের প্রতিপক্ষ দলগুলো ও জাতিসংঘ তা স্বীকার করতে বাধ্য হল।
হুদাইদা বন্দর সামরিক অভিযানের আওতামুক্ত থাকলে সেখান দিয়ে আবারও খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী ইয়েমেনে পাঠানো সম্ভব হবে।
রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের এক বিশাল অঞ্চল আনসারুল্লাহর দখলে রয়েছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হুদাইদাও এ বাহিনীর দখলে থাকায় এবং তা দখলের ক্ষেত্রে বার বার সৌদি জোটের ব্যর্থতা জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ জোটের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সৌদি জোটকে বাধ্য করেছে।
সানা বিমানবন্দরের ওপরও আনসারুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকার বিষয়টি এই আন্দোলনের আরেকটি বড় সাফল্য। এই বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ সৌদি জোটের কাছে ছেড়ে দেয়ার দাবিও নাকচ হয়ে যাওয়া ছিল আগ্রাসী জোটের জন্য আরও একটি বড় ব্যর্থতা।
মোট কথা ইয়েমেনে সৌদি জোটের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সৌদি জোট এইসব ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে ইয়েমেনে হামলা জোরদার করেছে। কিন্তু এসব হামলা সৌদি শাসকদের হিংস্র ও যুদ্ধকামী চেহারা বিশ্ববাসীর কাছে আরও স্পষ্ট করে দেয়ায় তাদের প্রতি বিশ্ব-সমাজের ঘৃণা এবং সৌদি জোটের কোণঠাসা বা একঘরে হওয়াটা বাড়তেই থাকবে।
পার্সটুডে/এমএএইচ/১৪
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন