ইয়েমেন ইস্যুতে স্টকহোম আলোচনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i66656-ইয়েমেন_ইস্যুতে_স্টকহোম_আলোচনার_সিদ্ধান্ত_ইতিবাচক_পদক্ষেপ
ইয়েমেন সংকটের শুরু থেকেই ইরান সবসময়ই বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার কথা বলে আসছে। এ কারণে সুইডেনের স্টকহোমে ইয়েমেন বিষয়ক আলোচনা প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮ ১৫:৫৩ Asia/Dhaka

ইয়েমেন সংকটের শুরু থেকেই ইরান সবসময়ই বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার কথা বলে আসছে। এ কারণে সুইডেনের স্টকহোমে ইয়েমেন বিষয়ক আলোচনা প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি মেহের বার্তা সংস্থাকে দেয়া সাক্ষাতকারে ইয়েমেন সংকট নতুন পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে উল্লেখ করে বলেছেন, সুইডেন বৈঠকের ফলাফল থেকে বোঝা যায় যুদ্ধ অবসানের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজ অনেক সোচ্চার। তিনি ইয়েমেন সংকট অবসানের জন্য ২০১৫ সালের এপ্রিলে ইরানের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইয়েমেনে সংঘাতের অবসান এবং দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইরানের উত্থাপিত ওই প্রস্তাবের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, ত্রাণ সাহায্য পাঠানো, সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু এবং একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে।

সুইডেনের স্টকহোমে গত ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ইয়েমেনি পক্ষগুলোর মধ্যে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ১৩ ডিসেম্বর। এ আলোচনায় জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি মার্টিন গ্রিফিট্স অংশ নেন। এ কারণে বৈঠককে ইয়েমেন সংকট সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শেষে হুদাইদা বন্দর এলাকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং দু'পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এ ছাড়া, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ, খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ এবং হুদাইদা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ জাতিসংঘ বাহিনীর ওপর ছেড়ে দেয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। জাতিসংঘের তত্বাবধানে পরবর্তী আলোচনা আগামী জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফের শুরু হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেন যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রয়োজন সৌদি আগ্রাসন বন্ধে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর আন্তরিক সদিচ্ছা। আমেরিকার সমর্থন নিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত ২০১৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। এমনকি ওই দেশটিকে তারা স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সৌদি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি ইয়েমেনি নিহত হয়েছে এবং ওই দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল বাশেলেট ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের দুর্দশা অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় সেখানকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ অবস্থায় ইয়েমেন ইস্যুতে সব পক্ষের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইরান মনে করে কেবল রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। তবে সুইডেনের প্রাথমিক আলোচনায় ব্যাপক আশার সঞ্চার হলেও পরবর্তীতে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।  # 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৭