আরব আন্ত-সংসদীয় সম্মেলনে সিরিয়া আমন্ত্রিত
-
বাশার আসাদ
২৯ তম আরব আন্ত-সংসদীয় সম্মেলন আগামি মার্চ মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জর্দানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে সিরিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জর্দানের স্পিকার আতেফ তারাওনে সিরিয়ার পার্লামেন্ট স্পিকার হাম্মুদা সাব্বাগকে আনুষ্ঠানিকভোবে আমন্ত্রণ জানান।
এই ঘটনায় সিরিয়াকে আরব লীগে ফেরানোর ইঙ্গিত বহন করছে। ২০১১সালে সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেছিল আরব লীগ।
সন্ত্রাসবাদ দমনে সিরিয়া সরকারের সাফল্যের মধ্য দিয়ে এবং প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের অবস্থান দৃঢ়তর হবার পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা পরিবর্তন আসে সিরিয়ার অনুকূলে।এই পরিবর্তন সিরিয়ার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি অবলম্বনকারী আরব দেশগুলোর মধ্যে যেমন লক্ষ্য করা যায় তেমনি তাদের পশ্চিমা দোসরদের মধ্যেও। গত কয়েক সপ্তায় জর্দানসহ পারস্য উপসাগরীয় কোনো কোনো আরব দেশের মধ্যে একটু নড়েচড়ে বসার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
আরব লীগের সদস্য থাকা অবস্থাতেই এই সংস্থাটি সিরিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল। ১৯৪৫ সালে মিশর, সৌদিআরব, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন এবং জর্দানকে নিয়ে এই সংস্থাটি গড়ে ওঠে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ২২। এর মধ্যে ১০ টি দেশ আফ্রিকার আর ১২টি এশিয়ার।
বহু আরব দেশ এই লীগে থাকলেও সৌদিআরবের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এই সংস্থাটির ওপর। সৌদি প্রভাবের কারণে বহু ভুল ও অন্যায় পদক্ষেপ এই সংস্থার পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।
সিরিয়ার সদস্য পদ স্থগিত করার পর গত কয়েক বছরে আরব লীগ সিরিয়া সংকট নিয়ে বহু বৈঠক করে। ওইসব বৈঠকের লক্ষ্যই ছিল সিরিয়ার অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ করা এবং দায়েশসহ আসাদ বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পশ্চিমাদের আধিপত্যবাদী লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা। যদিও আরব লীগের নীতিমালায় সংস্থাটির অপর কোনো সদস্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বাহ্যত এই সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছে আরব দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, সংহতি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। কিন্তু কার্যত সৌদিআরবসহ কয়েকটি আরব দেশ এই সংস্থাকে অপরাপর সদস্য দেশের ওপর তাদের হস্তক্ষেপমূলক নীতি এবং এ অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিন, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়াসহ এ অঞ্চলের সংকটগুলো নিরসনের ক্ষেত্রেও আরব লীগের ব্যর্থতা এবং নিষ্ক্রিয়তা সুস্পষ্ট।
এই সংস্থাটি ছোটোখাটো বিষয় নিয়েই মাথা ঘামায় বেশি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জসহ আরব দেশগুলোর প্রধান ও মৌলিক বিষয়গুলো সমাধানের ক্ষেত্রে সংস্থাটির নিষ্ক্রিয় ভূমিকা কার্যত আরব লীগকে গুরুত্বহীন করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোর সিরিয়া বিরোধী নীতি পুনর্বিবেচনা করা সত্যিই জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা সিরিয়া সবসময় আরব বিশ্বের দেশগুলোর ঐক্যের পক্ষে কাজ করেছে। সুতরাং সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টির যে প্রচেষ্টা নতুন করে লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা একদিকে যেমন আরব দেশগুলোর অতীতের ভুল নীতি প্রমাণ করছে অপরদিকে আরবলীগে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টার মাধ্যমে এটা স্বীকার করা হচ্ছে যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সিরিয়ার ভূমিকা ও অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।#
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন