সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা
অপরাধ বন্ধে তুরস্ককে রাজি করাতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় দামেস্ক
-
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আগ্রাসী তুর্কি বাহিনী (ফাইল ছবি)
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সেদেশের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘আগ্রাসী অপরাধযজ্ঞ’ চালানোর জন্য তুরস্কের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দামেস্ক। এ অপরাধ বন্ধ করতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে বাধ্য করার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সিরিয়া সরকার।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল (বৃহস্পতিবার) এক বিবৃতিতে বলেছে, বেসামরিক সিরীয় নাগরিকদের ওপর তুর্কি সেনারা যে অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে দামেস্ক। বিবৃতিতে তুর্কি অপরাধের উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাক্কা প্রদেশের তাল আবিয়াদ শহরের একটি বাড়িতে তুর্কি ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করা হয়।বুধবারের ওই হামলায় একাধিক শিশুসহ পাঁচজন নিহত ও বেশ কয়েক ব্যক্তি আহত হয়।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তুর্কি সেনা ও তাদের দোসর সশস্ত্র গেরিলারা আস্তানা ও সোচি চুক্তি লঙ্ঘন করে সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ভয়াবহ অপরাধ চালাচ্ছে।অবাধে তুর্কি বাহিনীর এ অপরাধ প্রমাণ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান নিজেকে আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করছেন।
তুরস্কের সেনাবাহিনী গত ৯ অক্টোবর থেকে ‘সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ’ ও ‘তুর্কি-সিরিয়া সীমান্ত থেকে কুর্দি গেরিলাদের মূলোৎপাটনের’ অজুহাতে সিরিয়া সীমান্তে হামলা চালায়। অবশ্য ১৭ অক্টোবর থেকে পাঁচদিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তুরস্কের এরদোগান সরকার। যুদ্ধবিরতির ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে রাশিয়ার সোচি শহরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার ফলে ওই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ পায়।
উত্তর সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত নিয়ে তুরস্ক সিরিয়ায় হামলা চালায়। তুর্কি বাহিনী গত তিন বছরে বহুবার সিরিয়ার সীমান্তে আগ্রাসন চালিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএমআই/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।