সৌদি আরবের প্রতারণার নয়া কৌশল: শর্ত সাপেক্ষে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক!
সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ বলেছেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হলে তেলআবিবের সঙ্গে সম্পর্ক করবে রিয়াদ। তিনি গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে টেলিফোন আলাপে সৌদি আরবের নীতি অবস্থানের কথা জানান। রাজা সালমান বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেনা সৌদি আরব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৩ আগস্ট জানিয়েছিলেন, আমিরাত ও ইসরাইল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তেলআবিব ও আবুধাবির মধ্যে সমঝোতা হওয়ার তিন সপ্তাহ পর সৌদি রাজা এ ব্যাপারে তার অবস্থান জানালেন। সৌদি রাজা সালমান দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে অস্বীকার করেননি বরং তিনি এটিকে শর্তযুক্ত করেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি রাজা তার বক্তব্যে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিকে শর্তযুক্ত করলেও তাদের কথা ও কাজের সাথে এর কোন মিল নেই। কারণ আমিরাত সরকার গত সপ্তাহে আবুধাবির উদ্দেশ্যে ইসরাইলি বিমান উন্নয়নে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য রিয়াদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছিল সৌদি সরকার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। এরপর ইসরাইলের প্রথম বিমান সৌদি আকাশ ব্যবহার করে আমিরাতে এসেছিল। অনায়াসে ইসরাইলি বিমান আসা-যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের অনুমতি দেয়া থেকে বোঝা যায়, রিয়াদ একদিকে ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টিকে সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিল এবং অন্যদিকে তেলআবিবের সঙ্গে রিয়াদের অনানুষ্ঠানিক স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় থাকারও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সৌদি আরবের উপর দিয়ে ইসরাইলি বিমান উড্ডয়নের যে অনুমতি রিয়াদ দিয়েছে তা আসলে ফিলিস্তিনিদের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তাই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্তে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে বলে সৌদি রাজা যে দাবি করেছেন তা আসলে স্রেফ কথার কথা এবং লোক দেখানো নাটক মাত্র।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ডিল অফ দ্যা সেঞ্চুরি পরিকল্পনায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টিকে অস্বীকার করা হয়নি বরং সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে পশ্চিম বাইতুল মোকাদ্দাসের মত পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসকেও ইসরাইলকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং একটি ছোট্ট গ্রামকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে। সৌদি রাজাও এ ধরনের অযৌক্তিক পরিকল্পনার বিরোধিতা করেননি এবং তিনি বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি সমর্থন জানান নি। এটাও সৌদি আরবের দ্বিমুখী নীতির আরেকটি দৃষ্টান্ত।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে সৌদি সরকার বিশেষ করে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করায় বিশ্বাসী। ২০১৮ সালের মার্চে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার জন্য সরাসরি ফিলিস্তিনিদেরকে দায়ী করেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে সৌদি রাজার কথা ও কাজে পরস্পর বিরোধী অবস্থান থেকে বোঝা যায়, তিনি ভাল করেই জানেন ফিলিস্তিনিদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তারই বদনাম হবে এবং বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা হারাবেন। লন্ডনের ইকোনমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক অধ্যাপক মাদাভি আল-রাশিদ এ ব্যাপারে বলেছেন, সৌদি আরবের বৃদ্ধ রাজা চান না এ ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে তার শাসনের অবসান ঘটুক কেননা তিনি ভাল করেই জানেন এর ফলে জনগণ তাঁকে অভিশাপ দেবে।
এ কারণে সৌদি রাজা শর্ত সাপেক্ষে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলে তিনি আসলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি লোক দেখানো সমর্থন জানিয়েছেন। এর অর্থ এটা নয় যে তিনি ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থানে আমিরাতের পদক্ষেপের বিরোধী। #
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।