শান্তি-আলোচনার নামে ইসরাইল ফিলিস্তিনে কেবল দখলদারিত্বেরই বিস্তার ঘটিয়েছে
ঐক্যবদ্ধ জিহাদের কৌশল নিয়ে দ্রুত ইসরাইলকে ধ্বংস করাই কুদস দিবসের দাবি
বর্ণবাদ ও সন্ত্রাসবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রায় ৭২ বছর ধরে তার পরজীবী ও ক্যান্সারময় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে মূলত মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর সহযোগিতায়।
অবশ্য সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনই এই জারজ রাষ্ট্রটির উৎপত্তির পটভূমি সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল।
অত্যন্ত হাস্যকর ও বলদর্পি অজুহাত দেখিয়ে ইসরাইলকে প্রতিষ্ঠা করা হয় ফিলিস্তিনের বুকে ফিলিস্তিনি জাতিকে প্রায় সমূলে উৎখাত করার প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। অজুহাতটা ছিল এই যে জার্মান নাৎসিরা লাখ লাখ ইহুদি হত্যা করেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আর সে জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে আরব ও ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে! এ ছাড়াও কয়েক হাজার বছর আগের কথিত ইহুদি রাজ্যের অজুহাত দেখিয়ে বর্ণবাদী ইসরাইল মুসলমানদের প্রথম কেবলার শহর বায়তুল মুকাদ্দাসও দখল করে।
মুসলমানদের অনৈক্য ও একদল আরব এবং নাম-সর্বস্ব মুসলিম শাসক-চক্র ও নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইসরাইল পশ্চিম এশিয়ায় অপরাজেয় শক্তি হিসেবে তার দানবীয় ইমেজ অব্যাহত রেখেছিল গত শতকের আশির দশকের প্রায় শেষ পর্যন্ত। এরপর ইরানে ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের প্রভাবে জেগে ওঠে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন। পাশাপাশি শুরু হয় ফিলিস্তিনিদের ইন্তিফাদা বা গণজাগরণ।
এইসব প্রতিরোধে দিশাহারা হয়ে ইসরাইল দুই হাজার সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয় এবং ইহুদিবাদীদের অপরাজেয় থাকার ইমেজ ভূলুণ্ঠিত হয়। এ অবস্থায় শান্তি-আলোচনার নামে ও ফিলিস্তিনিদেরকে স্বশাসিত রাষ্ট্র দেয়ার নামে ইসরাইল আবারও ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বের বিস্তার ঘটাতে থাকে। অবশ্য হামাস ও ইসলামী জিহাদের মত সংগ্রামী দলগুলোর প্রচেষ্টায় গাজা উপত্যকা ইসরাইলি দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়। ফিলিস্তিনিদের এই সাফল্যে ইরানের ইসলামী সরকার ও লেবাননের হিজবুল্লাহর পাশাপাশি সিরিয়ার সহায়তাও ছিল অন্যতম প্রধান চালিকা-শক্তি।গাজার সংগ্রামী ফিলিস্তিনি ও লেবাননের হিজবুল্লাহ'র মুজাহিদদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও কয়েকবার পরাজয়ের স্বাদ পায় ইসরাইল।
শান্তি আলোচনা নয় বরং প্রতিরোধ সংগ্রামের মাধ্যমেই যে ফিলিস্তিনি জাতি তাদের ৮৫ শতাংশ হারানো ভূখণ্ড আবারও ফিরে পেতে পারে তা এখন সবার কাছে স্পষ্ট। ইসলামী ইরান যে গণভোটের মাধ্যমে ফিলিস্তিনে কেবল একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে তাও বহিরাগত ইহুদিবাদীদের নেতৃত্বাধীন ইসরাইল কখনও মেনে নেবে না প্রতিরোধের চাপে দিশেহারা না হওয়া পর্যন্ত। বর্তমান বিশ্বে ফিলিস্তিনের ভেতরে ও বাইরে থাকা এক কোটি চল্লিশ লাখ ফিলিস্তিনি হবে এই গণভোটের ভোটদাতা এবং ফিলিস্তিনের স্থানীয় ইহুদিরাও তাতে অংশ নিতে পারবে যারা প্রায় ৭২ বছর আগে ছিল ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার বড় জোর ৫ থেকে সাত শতাংশ।
অবশ্য ব্রিটেনের সহায়তায় বহিরাগত ইহুদিবাদীদের এনে ও বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনিদের ফিলিস্তিন থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে ইহুদি জনসংখ্যাকে ৩২ শতাংশে উন্নীত করে ইসরাইল। তাই ফিলিস্তিনের স্থানীয় ও প্রকৃত অধিবাসীদের বংশধরদের নিয়ে গণভোট হলে ফিলিস্তিনিরাই বিজয়ী হবে সন্দেহাতীতভাবে।
যাই হোক, মুসলমানদের প্রথম কেবল উদ্ধারের জন্য বিশ্বের সব মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও ফিলিস্তিনি সংগ্রামীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়াই হচ্ছে আজকের এই মহান দিবস তথা বিশ্ব কুদস দিবসের প্রধান দাবি। ইসলামের গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্যই তা অপরিহার্য।
মুসলমানদের প্রথম কিবলাকে ইহুদিবাদী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে ও ইসলামী ঐক্য জোরদার করতে মরহুম ইমাম খোমেনি বিশ্ব কুদস দিবসের প্রচলন করেছেন ১৯৮০ সালের দিকে। ইহুদিবাদী শক্তি ও ইসলাম বিরোধী শক্তি এ ধরনের ইসলামী ঐক্যকে আতঙ্কের দৃষ্টিতে দেখছে। মুনাফিক মুসলিম সরকারগুলোও বিশ্ব কুদস দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বিপরীতে এবং পবিত্র কুরআনের আয়াতের বিপরীত পথ বেছে নিয়ে ইসলাম বিরোধী কাফির শক্তিগুলো ও কাফির শক্তিগুলোর মধ্যে ইসলাম-বিরোধিতায় সবচেয়ে কঠোর হিসেবে কুখ্যাত ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে নতজানুমূলক ও অপমানজনক বন্ধুত্ব ক্রমেই জোরদার করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষের শক্তিগুলোরই বিজয় হবে যার ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে পবিত্র কুরআনে। প্রতীক্ষিত সেই বিজয় ও ইসরাইলের বিলুপ্তি খুব দূরে নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীও এই বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে এ লক্ষ্যেই সব ফিলিস্তিনি ও মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর অভিন্ন কর্মকৌশল গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমাম খোমনেী (র) দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, 'আরবরা যদি এক বালতি করে পানি ঢালতো তবে ইসরাইল ভেসে যেত'। #
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।
পার্সটুডে/এমএএইচ/৭