ইউক্রেনের খেরসন শহর রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
বিশেষ সামরিক আগ্রাসনের সপ্তম দিনে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহত্তম শহরে খেরসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে রুশ বাহিনী।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাশিয়ার সরকারি গণমাধ্যম স্পুতনিক নিউজ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আজ (বুধবার) সকালে কৃষ্ণসাগরের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও শিল্পকেন্দ্র খেরসনের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
খেরসনে মেয়র ইগর কলিখায়েভ বলেছেন, শহরের প্রধান ট্রেন স্টেশন এবং বন্দর রুশ বাহিনীর দখলে চলে গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত রাশিয়া যেসব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, তার মধ্যে খারসন সবচেয়ে বড় শহর। এখানে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। কৌশলগতভাবে এ শহর রুশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠতে পারে।
শহরের এক কাউন্সিলর বিবিসিকে বলেছেন, খেরসনে অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই বেসামরিক লোক।
কিয়েভ দখলে অবস্থান
এদিকে, ইউক্রেনের রাজধানী শহর কিয়েভ নিয়ন্ত্রণের টার্গেট নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। পূর্ব ও পশ্চিম দিক অগ্রসর হয়ে পুরো শহর ঘিরে ফেলার মতো অবস্থান তৈরি করছে তারা। রাশিয়ার ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সামরিক বহরটি এখনো শহরের উত্তর দিকে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণের জন্য সেনাদের সহযোগিতা করতে এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
৬০টির বেশি সামরিক অবস্থানে হামলা
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনে ৬০টিরও বেশি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে দেড় হাজারের বেশি সামরিক অবকাঠামোর ধ্বংস হয়েছে।
৫৮৪০ রুশ সেনা নিহত: দাবি ইউক্রেনের
এদিকে, ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের প্রতিরোধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার ৫৮৪০ জন সেনা নিহত হয়েছে। এর পাশাপাশি আগ্রাসি বাহিনীর ৩০টি বিমান, ৩১টি হেলিকপ্টার, ২১১টিরও বেশি ট্যাঙ্ক, ৮৬২টি সাঁজোয়া যান (এপিভি), ৮৫টি আর্টিলারি সিস্টেম, ৯টি বিমান বিধ্বংসী সিস্টেম, ৬০টি জ্বালানি ট্যাংক লরি, ৩৫৫টি গাড়ি ধ্বংস ও ৪০টি এমএলআরএস রকেট লঞ্চার জব্দ করেছে তারা।
ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, তাদের হিসাবে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের ৩৫২ জন বেসামরিক নিহত ও ১৬৮৪ জন আহত হয়েছে।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২