রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় আবার অভিযান শুরু হয়েছে: রাশিয়া
-
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগোর কোনাশেঙ্কভ
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের মারিউপোল ও ভলনোভাখা শহর থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে যে সামরিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল তার অপব্যবহার করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এ কারণে ওই যুদ্ধবিরতি স্থগিত করে আবার সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগোর কোনাশেঙ্কভ শনিবার রাতে বলছেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের উগ্র জাতীয়তাবাদী সশস্ত্র ব্যক্তিরা শনিবার রাশিয়ার সেনাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে এবং তাদেরকে হামলা করা থেকে বিরত রাখতে কিয়েভ ব্যর্থ হয়। এ কারণে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাশিয়ার সেনাবাহিনী আবার অভিযান শুরু করেছে। তবে ইউক্রেনের সমর্থক পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমগুলো দাবি করেছে, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে নিজেই তা লঙ্ঘন করেছে।
রুশ সেনাদের অগ্রাভিযানের সময় দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে পড়ে যাতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু না হয় সেজন্য রাশিয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। মস্কো বলেছিল, যুদ্ধবিরতির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের শহর দু’টি থেকে বের করে নিতে হবে যাতে পরবর্তীতে অভিযান চালানোর সময় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিতে না হয়।
কিন্তু রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দেশটির ঘোষিত নিরাপদ করিডোর দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের বেরিয়ে যাওয়ার কাজে বাধা সৃষ্টি করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেছেন, তার দেশের সেনারা গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের চারটি সুখোই-২৭ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেয়।মস্কো ঘোষণা করে, এই সামরিক অভিযানের অর্থ যুদ্ধ নয় বরং বিশ্বব্যাপী একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রতিহত করার লক্ষ্যে এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় ও মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো রাশিয়ার এ ঘোষণার একাংশ প্রকাশ করে জানায়, কিয়েভের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মস্কো। এরপর রাশিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে পশ্চিমা দেশগুলো।#
পার্সটুডে/এমএমআই/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।