পাকিস্তানে শিয়াদের সঙ্গে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত বেধে যেতে পারে: গোয়েন্দা সংস্থা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i11314-পাকিস্তানে_শিয়াদের_সঙ্গে_উগ্র_গোষ্ঠীগুলোর_সংঘাত_বেধে_যেতে_পারে_গোয়েন্দা_সংস্থা
পাকিস্তানের ইউনিটি মুসলিম কাউন্সিলের মহাসচিব আল্লামা নাসের আব্বাস জাফরির অনশন ধর্মঘট চলার একই সময়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে শিয়া মুসলমানদের সংঘর্ষ হতে পারে। সারা দেশে শিয়া মুসলমানদের ওপর হামলা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আল্লামা নাসের আব্বাস জাফরি ইসলামাবাদে প্রেসক্লাবের সামনে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। গত ২৬ দিন ধরে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
জুন ০৬, ২০১৬ ১২:৩১ Asia/Dhaka

পাকিস্তানের ইউনিটি মুসলিম কাউন্সিলের মহাসচিব আল্লামা নাসের আব্বাস জাফরির অনশন ধর্মঘট চলার একই সময়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে শিয়া মুসলমানদের সংঘর্ষ হতে পারে। সারা দেশে শিয়া মুসলমানদের ওপর হামলা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আল্লামা নাসের আব্বাস জাফরি ইসলামাবাদে প্রেসক্লাবের সামনে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। গত ২৬ দিন ধরে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, সেপাহে সাহাবা ও লস্করে জাংভির মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থকরা প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হয়ে সেখানে শিয়া মুসলমানদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে।

গত দুই বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে পারাচেনার ও লাহোরে শিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হামলা বেড়ে গেছে। তেহরিকে তালেবানের সঙ্গে লস্করে জাংভি ও সেপাহে সাহাবার মতো উগ্র গোষ্ঠীগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় পাকিস্তানে শিয়া মুসলমানদের ওপর হত্যাকাণ্ড আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উগ্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের শিয়াদেরকে দুর্বল করার জন্য অনেক আগে থেকেই টার্গেট কিলিং চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তারা বহু গুরুত্বপূর্ণ শিয়া আলেমকে হত্যা করেছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল মনে করেন, দেশটির ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র বা মাদ্রাসায় ধর্মের ভুল শিক্ষা দেয়ার কারণে ও বিকৃত ওহাবি মতবাদের প্রভাবে সেখানে উগ্রপন্থা চরম আকার ধারণ করেছে। সৌদি আরবের অর্থ সহায়তা ও রাজনৈতিক সমর্থনে এ ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এবং উগ্রপন্থার ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানে হাজার হাজার ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র বা মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। পড়াশোনা শেষ করে এসব মাদ্রাসা থেকে বছরে ২০ হাজার ছাত্র বের হয় যাদের বেশির ভাগই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে তৎপর উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কারণ পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করার মত যোগ্যতার অভাব রয়েছে তাদের মধ্যে। বেশিরভাগ মাদ্রাসা চলে সৌদি আরবের অর্থে এবং ওয়াহাবি মতাদর্শের প্রচার চালানো হয় এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই। এভাবেই সৌদি আরব সর্বত্র উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে ছড়িয়ে দেয়ার নীতি গ্রহণ করেছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভের পরও দেখা গেছে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে এবং তারা একে অপরের ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখায়। শিয়াদের মহররমের শোকানুষ্ঠানে পাকিস্তানের সুন্নি মুসলমানরাও অংশ নিয়ে থাকে। এভাবে চলে আসছে বহুদিন ধরে। কিন্তু সৌদি আরব ওয়াহাবি মতবাদ প্রচারের জন্য পাকিস্তানে অসংখ্য মাদ্রাসা তৈরি করার পর এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। কারণ সৌদি সমর্থনপুষ্ট এসব মাদ্রাসা থেকেই শিয়াদেরকে হত্যার জন্য উস্কানি দেয়া শুরু হয়।

এ অবস্থায় পাকিস্তানের শিয়া মুসলিম নেতৃবৃন্দ বারবারই তাদের ওপর হত্যাকাণ্ডের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে আসছেন। তারা ওহাবি সালাফি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকার ও সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়ে আসছে। ধর্মের নামে গড়ে ওঠা বিদেশি মদদপুষ্ট এসব উগ্রপন্থীরা যাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য তারা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

শিয়া মুসলমানদের রক্ষায় সরকার ও সেনাবাহিনীর অবহেলার প্রতিবাদেই পাকিস্তানের ইউনিটি মুসলিম কাউন্সিলের মহাসচিব আল্লামা নাসের আব্বাস জাফরি অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। #

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/৬