সুইডেনে সরকারি মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননায় মুসলিম বিশ্বে নিন্দার ঝড়
https://parstoday.ir/bn/news/world-i125006-সুইডেনে_সরকারি_মদদে_পবিত্র_কুরআন_অবমাননায়_মুসলিম_বিশ্বে_নিন্দার_ঝড়
সুইডেনে সরকারি মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। দাবি উঠেছে সুইডিশ পন্য বর্জনের।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জুলাই ০১, ২০২৩ ১৪:১১ Asia/Dhaka

সুইডেনে সরকারি মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। দাবি উঠেছে সুইডিশ পন্য বর্জনের।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও সৌদি আরব ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র জরুরি বৈঠক ডেকেছে। তুরস্ক, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, লেবানন, মরক্কো, সিরিয়া ও ইরাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকার সুইডিশ সরকারের মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এইসব দেশ সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে অথবা সুইডেন থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ডেকে এনেছে প্রতিবাদ হিসেবে।  

গতকাল শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা জুমার নামাজের পর সুইডেন সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। ইরাকে বিক্ষোভকারী একদল জনতা সুইডেনের দূতাবাসের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। তেহরানে সুইডিশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিপ্লবী ইরানি মুসলমানরা।

 গত বুধবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রীয় মসজিদের বাইরে দুই ব্যক্তি আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পবিত্র কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদেকে এই ন্যক্কারজনক কাজ করার অনুমতি দেয় একটি সুইডিশ আদালত। কুরআন অবমাননা করার জন্য ওই ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তিরা পবিত্র ঈদুল আজহার দিনটিকে বেছে নেয়।

ইরান ও ইরাকের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহও সুইডেন সরকারের মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি শুক্রবার তেহরানে বলেছেন, বিশ্ব মুসলিম কখনও তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা সহ্য করবে না। তিনি আরো বলেছেন, বাক স্বাধীনতার অজুহাত দেখিয়ে ধর্মগ্রন্থের অবমাননার ঘটনায় পশ্চিমাদের চিন্তার দৈন্যতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার কথা বলে এ ধরণের কাজ করছে। আসলে তাদের এসব অপকর্ম থেকে এটা স্পষ্ট যে, তারা মানুষের স্বাধীনতার বিরোধী। তারা বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার যে শ্লোগান দিচ্ছে তা মিথ্যাচার।

এদিকে ন্যাটো জোটের মহাসচিব বলেছেন, কুরআন পোড়ানোর ঘটনা বেআইনি কোনো কাজ নয়। তিনি একে বাক-স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলে বোঝাতে চেয়েছেন। অথচ ইউরোপ ও পাশ্চাত্যে ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলাকে ও বিশেষ করে কথিত হলোকাস্টের অতিরঞ্জিত ঘটনা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ  আইনত সহ্য করা হয় না! দুঃখজনক বিষয় হল বাক-স্বাধীনতার নামে কেবল পবিত্র কুরআন ও ইসলামের মহানবীকেই (সা) টার্গেট করা হচ্ছে! যদি মুসলিম কোনো দেশে খ্রিস্ট ধর্ম বা অন্য কোনো ধর্মের অবমাননা করা হত তাহলে পাশ্চাত্য ঠিকই একে বর্বরোচিত কাজ বলে নিন্দা জানাত। 

রাশিয়ার সংসদ দ্যুমা সুইডিশ সরকারের মদদে পবিত্র কুরআন অবমাননার নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, রাশিয়ায় পবিত্র কুরআন অবমাননা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। 

ইরাকের শীর্ষস্থানীয় আলেম আয়াতুল্লাহ সিস্তানি জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনি গুতেরেসের কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, বাক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এমন লজ্জাজনক আচরণের অনুমতি দিতে পারে না, যা বিশ্বের দুই বিলিয়নেরও বেশি মুসলমানের পবিত্রতার উপর একটি প্রকাশ্য আক্রমণ এবং যা চরমপন্থী চিন্তাভাবনা ও ভুল আচরণ বিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে। 

মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান আহমাদ আততাইয়্যেব সুইডিশ পন্য বর্জনের পদক্ষেপ নিতে মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।