'ইউক্রেনে ন্যাটোর ব্যর্থতা ও নেতৃত্ব দানে ইউরোপের অযোগ্যতা স্পষ্ট'
https://parstoday.ir/bn/news/world-i127396-'ইউক্রেনে_ন্যাটোর_ব্যর্থতা_ও_নেতৃত্ব_দানে_ইউরোপের_অযোগ্যতা_স্পষ্ট'
ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিউসেফ কন্তে বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাতে ন্যাটো জোটের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
আগস্ট ২৮, ২০২৩ ১০:৩৭ Asia/Dhaka

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিউসেফ কন্তে বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাতে ন্যাটো জোটের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেছেন, ইউক্রেন সংঘাতে বিরামহীন সামরিক সহায়তা দেয়া ও সংঘাত উস্কে দেয়ার যুক্তি-ভিত্তিক ন্যাটো জোটের যে কৌশল তা ব্যর্থ হয়েছে এবং এই সংঘাত ইউরোপীয় জোটের নেতৃত্ব দেয়ার অক্ষমতা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের নতজানু অবস্থার করুণ বা শোচনীয় দৃশ্য তুলে ধরেছে।বর্তমানে ইতালির ফাইভস্টার নামক দলের প্রধান কন্তে সম্প্রতি (শনিবার) এইসব মন্তব্য করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, ন্যাটো জোটের ওইসব কৌশলের কারণে রাশিয়ার সামরিক পরাজয় ঘটেনি, বাখমুতে রুশ সেনারা পরাজিত হয়নি, সেখানে রুশ সেনা ইউনিটগুলো ধসে পড়েনি, ইউক্রেনীয় পাল্টা হামলায় রুশ সেনাদের পিছু হটার ঘটনাও ঘটছে না! ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপের ফলে রাশিয়া দেউলিয়া হয়নি এবং রুশ অর্থনীতিতেও মন্দা দেখা দেয়নি।

জিউসেফ কন্তে আরও বলেছেন, রাশিয়াকে একঘরে করার বা কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা বাস্তব হয়ে দেখা দেয়নি, বরং ব্রিক্স জোট ২০২৪ সাল নাগাদ আরও সুপরিসর হতে যাচ্ছে যাও আওতাধীন বিশ্বের ৪৫ শতাংশ জনগণ এবং বিশ্বের জিডিপির ৩৮.২ শতাংশ।

কন্তের মতে পুরনো ইউরোপের এ সংঘাত থেকে এটা ফুটে উঠেছে যে ইউরোপীয় জোট কোনো কার্যকর অভিন্ন কৌশল গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই জোটের স্বাধীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতাও নেই, বরং তারা মার্কিন শাসকদের অধীনস্থ!  রাশিয়াকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত করার আশা যে বিভ্রান্তি বা দুরাশা সে বিষয়ে তার দল সব সময়ই নিশ্চিত ছিল বলে কন্তে মন্তব্য করেছেন। তিনি বার বার ইউক্রেন সংকট সমাধানের জন্য শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

এ ধরনের সংলাপে অগ্রগতি অর্জনের জন্য ভ্যাটিকান ও আন্তর্জাতিক সমাজের অন্যান্য সদস্যের অংশগ্রহণের পক্ষপাতী বলেও উল্লেখ করেছেন। কখন ও কোথায় কিভাবে কোন্ কোন্ শর্তে সংলাপ হবে সে বিষয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দিতে রাজি নন। ইতালির দল ফাইভ স্টার মুভম্যান্ট ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানোর বিরোধিতা করে আসছে। এই নীতি অবস্থানের পরোক্ষ পরিণতিতে কন্তের দল ইতালির ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকার ত্যাগ করে গত গ্রীষ্মকালে (২০২২)। ফলে মারিও দ্রাকির ওই সরকারের পতন ঘটে।ইউরোপীয় জোটের কয়েকটি দেশ ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে ইঙ্গ-মার্কিন নীতির বিরোধিতার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করছে। এইসব দেশের মধ্যে রয়েছে হাঙ্গেরি ও ফ্রান্স। 

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি ইউক্রেন সংকটের জন্য ন্যাটো ও পাশ্চাত্যকে দায়ি করে আসছেন এবং মার্কিন অস্ত্র কোম্পানিগুলো যে এই সংকট জিইয়ে রেখে বিপুল মুনাফা অর্জন করতে চায় তাও উল্লেখ করেছেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।