ফ্রান্সে ফের সন্ত্রাসী হামলা: সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনের খেসারত
ফ্রান্সে ফের বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সে বাস্তিল দিবস নামে পরিচিত দেশটির জাতীয় দিবসের আতশবাজি উৎসব দেখার জন্য প্রচুর মানুষ সমবেত হয়েছিল। সে সময় হতভাগ্য মানুষদের ওপর দ্রুত গতিতে ভারি ট্রাক চালিয়ে দিলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ফ্রান্সের সরকারি কৌশলি বলেছেন, ট্রাকটি দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মানুষের ওপর ট্রাক হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী নিসে স্থানীয় সময় গতরাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ট্রাকের ড্রাইভারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং সে তিউনিসিয়ার বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাকে একাধিক অস্ত্র এবং গ্রেনেড পাওয়া গেছে। এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর চলতি বছর ব্রাসেলসেও অনুরূপ হামলার ঘটনা ঘটে। আগের এসব হামলার সঙ্গে তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ জড়িত ছিল। তবে গতরাতে ফ্রান্সের নিস শহরে সন্ত্রাসী হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রান্সে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা চলছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলান্দ গতকালই বৃহস্পতিবার রাতে এর আগে ঘোষিত জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ থেকেই বোঝা যায়, নিরাপত্তার ব্যাপারে দেশটির কর্মকর্তারা অতি আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু ফের সন্ত্রাসী হামলার পর তারা জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গতরাতে ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বলা যায়, এটা আগামীতে শুধু ফ্রান্সেরই নয় বরং সারা ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি ও নভেম্বরে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্সে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন আইন তৈরি করা হয়েছে। ওই আইনে সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। যদিও দেশটির জনগণ এ ধরণের আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। মনে হচ্ছে, নতুন আইন বাস্তবায়ন, জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানা, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রভৃতি পদক্ষেপ নেয়ার পরও সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে ফ্রান্স সরকার।
এদিকে, ফ্রান্সে গতরাতে ট্রাক চালিয়ে পিষে মানুষ হত্যার দায় স্বীকার করেছে দায়েশ সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কেন আবারো ফ্রান্সে হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর কারণ সম্পর্কে দায়েশ জানিয়েছিল, দায়েশ বিরোধী জোটে ফ্রান্স যোগ দেয়ার কারণেই প্রতিশোধ হিসেবে তারা হামলা চালায়। তাই বলা যায়, ফ্রান্সে এখন যা ঘটছে তা সিরিয়ার ব্যাপারে প্যারিসের পূর্ব নীতিরই ফল। কারণ ইউরোপের প্রভাবশালী দু’টি দেশ অর্থাৎ ব্রিটেন ও ফ্রান্স এবং আমেরিকা ও তাদের আরব মিত্ররা মিলে সিরিয়ায় দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল।
বর্তমানে ইউরোপকে দু’ইভাবে তাদেরই কর্মফল ভোগ করতে হচ্ছে। প্রথমত, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়া থেকে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর ঢল সামলাতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসা নিজেদেরই সৃষ্ট তাকফিরি সন্ত্রাসীদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইউরোপীয় সরকারগুলো। ইউরোপীয়রা বিশেষ করে ফ্রান্স সরকার ভাবতেই পারেনি যে, তাদেরই লালিত পালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের জন্যই একসময় কাল হয়ে দাঁড়াবে। #
পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১৫