ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রধান দুই দলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়ছে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i154354-ব্রিটিশ_রাজনীতিতে_প্রধান_দুই_দলীয়_রাজনৈতিক_ব্যবস্থা_কি_ভেঙে_পড়ছে
পার্টসটুডে- সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ব্রিটিশ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে বিভ্রান্তি এবং জনসাধারণের অবিশ্বাসের ক্ষেত্র করে তুলেছে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
নভেম্বর ২৩, ২০২৫ ১৯:২৭ Asia/Dhaka
  • •	ব্রিটিশ রাজনীতিতে দুই-দলীয় ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়ছে?
    • ব্রিটিশ রাজনীতিতে দুই-দলীয় ব্যবস্থা কি ভেঙে পড়ছে?

পার্টসটুডে- সাম্প্রতিক ঘটনাবলী ব্রিটিশ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে বিভ্রান্তি এবং জনসাধারণের অবিশ্বাসের ক্ষেত্র করে তুলেছে।

শুক্রবার, লন্ডনের কেন্দ্রীয় অপরাধ আদালত (ওল্ড বেইলি) ওয়েলসে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে পার্টির সাবেক নেতা এবং ইউরোপীয় সংসদের সাবেক ব্রিটিশ সদস্য ৫২ ​​বছর বয়সী নাথান গিলকে ১০ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। তিনি এর আগে ঘুষ গ্রহণের আটটি অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, প্রসিকিউশনের মতে, ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একজন রাজনীতিবিদ কমপক্ষে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ পাউন্ড প্রদান করেছিলেন যাতে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ইউরোপীয় সংসদ এবং বিদেশী মিডিয়াতে ইউক্রেন সম্পর্কে রাশিয়ার বর্ণনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ অবস্থান উপস্থাপন করতে পারেন। মামলার বিচারক এই আচরণকে "জনসাধারণের আস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা" হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং মিডিয়া এটিকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিদেশী আর্থিক প্রভাবের সবচেয়ে অভূতপূর্ব উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করেছে।

রায়ের পর এক বিবৃতিতে, "দুর্নীতিগ্রস্ত ওয়েস্টমিনস্টার অভিজাতদের প্রতি ক্ষুব্ধ জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী" হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনকারী রিফর্ম পার্টি গিলের আচরণকে বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ এবং ক্ষমার অযোগ্য বলে অভিহিত করেছে এবং তাকে "বিচ্যুত" এবং দলের মূল সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে।

এই খবর প্রচারের সাথে সাথে, রিফর্ম পার্টির নেতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের প্রচারণার প্রধান ব্যক্তিত্ব নাইজেল ফ্যারেজের উপর চাপ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে মস্কোর ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্কগুলির প্রভাব মেনে নেয়ার অভিযোগ করেছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দলটির সাথে রাশিয়ান আর্থিক উৎসের সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিতর্কিত বিষয়ের পাশাপাশি, ডেইলি টেলিগ্রাফ সংবাদপত্র কর্তৃক প্রকাশিত জাতীয় জরিপের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন নির্বাচনী পূর্বাভাস থেকে বোঝা যায়, কয়েক দশক ধরে ব্রিটিশ সংসদীয় রাজনীতির দুটি প্রধান স্তম্ভের মধ্যে একটি কনজারভেটিভ পার্টি, যদি একটি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে হাউস অফ কমন্সে মাত্র ১৪টি আসন জিততে পারে।

এই পরিস্থিতিতে, রিফর্ম পার্টি প্রথম স্থানে রয়েছে এবং এই পূর্বাভাস অনুসারে, ৩৩০ টিরও বেশি আসন এবং তার প্রতিযোগীদের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়ে কয়েক ডজন আসন বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে, এটি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে লেবার এবং কনজারভেটিভদের মধ্যে ঐতিহাসিক দুই দল ভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।  

অনেক ভোটারের কাছে এই চিত্রটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং লবিস্টদের হাত কেটে ফেলার স্লোগান নিয়ে মাঠে নামা বিকল্প দলও অর্থের অনুপ্রবেশ এবং পর্দার আড়ালে খেলা থেকে মুক্ত নয় এবং কেবল দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানই রাজনৈতিক বিশুদ্ধতার গ্যারান্টি নয়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্রেক্সিটের বিশৃঙ্খলার অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টি এখন জনপ্রিয়তার তীব্র পতন এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে সমালোচনার  মুখোমুখি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে যে জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের কর্মক্ষমতা নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে এবং বেশিরভাগ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে, অনেক নাগরিক ইতিমধ্যেই আশঙ্কা করেছেন যে এই সপ্তাহে উপস্থাপিত হতে যাওয়া সম্পূরক বাজেট পরিবারের উপর আরও বেশি করের বোঝা চাপিয়ে দেবে।

দীর্ঘ রক্ষণশীল শাসনের অবসানের দ্বিতীয় বছরের প্রাক্কালে এই লক্ষণগুলি ব্রিটেনের একটি চিত্র তুলে ধরে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী দুই-দলীয় ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে, নতুন শাসক দল অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রত্যাশার দ্বারা জীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং জনপ্রিয় বিকল্পটি নিরাপত্তা ও আর্থিক মামলার ভারী ছায়া থেকে রেহাই পায়নি।

জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, করের চাপ, জনসেবার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ এবং বৈদেশিক নীতির প্রতি অসন্তোষের মুখোমুখি একজন ভোটারের জন্য, এই বিকল্পগুলির মধ্যে একটি বেছে নেওয়া আশার চেয়ে এক ধরণের "রাজনৈতিক অসহায়ত্ব"র কথা বেশি মনে করিয়ে দেয়। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যাকে অনেক বিশ্লেষক "ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গন" ভেঙে যাওয়ার এবং আগামী বছরগুলিতে দেশটির খণ্ডিত সংসদ এবং ভঙ্গুর জোটের দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।