ট্রাম্পকে এক্স ব্যবহারকারীদের বার্তা: ইরান নয়, আগে মার্কিনীদের বাঁচান
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
পার্সটুডে: ইরানের জনগণকে বাঁচানোর দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র সমালোচনা করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর ব্যবহারকারীরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যাল–এ এক পোস্টে লেখেন: “যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং তাদের হত্যা করা হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তৈরি আছি।"
ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক্স–এর ব্যবহারকারীরা নানা মন্তব্য করেছেন। এই প্রতিবেদনে পার্সটুডে সেগুলোর দিকে নজর দিয়েছে।
এক্স ব্যবহারকারী সুমিত রাজ ট্রাম্পের এই দাবির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে লেখেন: “আমেরিকার লক্ষ্য মানুষকে উদ্ধার নয়; তাদের লক্ষ্য ইরানের তেল ও গ্যাস।”
ব্ল্যাক নামে আরেক ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লিখেছেন, ট্রাম্পের উচিত আগে নিজের দেশের দিকে তাকানো। তিনি লেখেন, “আমেরিকাকে স্কুলে গোলা-গুলির সমস্যা থেকে কে রক্ষা করবে? ট্রাম্প কেন সব দেশের বিষয়ে নাক গলান?”
ইরানি এক্স ব্যবহারকারী সাইয়্যেদ মোহাম্মদ মারান্দি লেখেন: “আমেরিকা অন্যায় কাজকে বৈধতা দিতে সব সময় মিথ্যা বলে। তারা নিজের স্বার্থে মানুষ হত্যা ও লুটপাট করে। আমেরিকা হলো বড় শয়তান।”
আরেক এক্স ব্যবহারকারী হাইদো গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যায় ট্রাম্পের সহযোগিতার প্রতি ইঙ্গিত করে লেখেন: “ট্রাম্প কি কখনো গাজায় নিহত নিরীহ বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের রক্ষায় কিছু করেছেন? না, বরং তিনি গণহত্যার সহযোগী এবং এখনো ইসরায়েলকে অস্ত্র দিচ্ছেন।”
এক্সের সক্রিয় ব্যবহারকারী মানিশ দেবি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন: “ইরানের জনগণকে সাহায্যের ট্রাম্পের দাবি এমন সময়ে করা হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এবং সে দেশের বৈধ প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করেছে।”
আরেক ব্যবহারকারী মাইন্ড পালস ট্রাম্পের ইরান–সংক্রান্ত বক্তব্যকে সরাসরি হুমকি বলে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন: “এটা প্রতিবাদকারীদের উদ্ধার নয়। এটা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অধিকার বজায় রাখার বিষয়। ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট ভাষা, অজানা উসকানিদাতা এবং স্পষ্ট হুমকি। ‘মানবাধিকার’ এখানে শুধু অজুহাত।”
আবু হান্টার নামের আরেক ব্যবহারকারী লেখেন: “আমেরিকার আগে নিজের জনগণের দেখভাল করা উচিত। হঠাৎ করে ইরানের জনগণের জন্য এত দরদ কেন? এটা তাদের দেশ, তাদের আইন—তারা (ইরানিরা) নিজেরাই বিষয়টি সামলাবে। এর মানে শয়তানের আরেকটি যুদ্ধ।”
এ প্রসঙ্গে অক্স নাম্বার লেখেন: “এই লোকটা কেন সবসময় অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়? তার কি নিজের কোনো মানুষ নেই যাদের দেখভাল করা দরকার?”
পার্সটুডে/এমএআর/৬