ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন; এতো ভয়াবহ নৈতিক অধঃপতন দিয়ে পশ্চিমারা কী করবে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156726-ওয়াশিংটন_থেকে_লন্ডন_এতো_ভয়াবহ_নৈতিক_অধঃপতন_দিয়ে_পশ্চিমারা_কী_করবে
পার্সটুডে- ব্রিটেনে জেফ্রি এপস্টাইনের নৈতিক কেলেঙ্কারির মাত্রা সম্প্রসারণ, রাজনৈতিক ও রাজকীয় অভিজাতদের নাম জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে, আবারও মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে যে নৈতিক, স্বচ্ছ এবং মানবাধিকার দাবিকারী পশ্চিমারা কোথায় যাচ্ছে।
(last modified 2026-02-04T11:42:53+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ ১৭:৪১ Asia/Dhaka
  • • ইয়র্কের ডিউক নামে পরিচিত প্রিন্স অ্যান্ড্রু
    • ইয়র্কের ডিউক নামে পরিচিত প্রিন্স অ্যান্ড্রু

পার্সটুডে- ব্রিটেনে জেফ্রি এপস্টাইনের নৈতিক কেলেঙ্কারির মাত্রা সম্প্রসারণ, রাজনৈতিক ও রাজকীয় অভিজাতদের নাম জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে এনে, আবারও মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে যে নৈতিক, স্বচ্ছ এবং মানবাধিকার দাবিকারী পশ্চিমারা কোথায় যাচ্ছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠার নথির মধ্যে, ইয়র্কের ডিউক নামে পরিচিত প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং তার প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসনের নাম আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা "যৌন অপরাধী" এর সাথে এই দুই প্রাক্তন রাজকীয় কর্মকর্তার সম্পর্ককে আগের চেয়েও বেশি প্রকাশ করেছে।

এএফপির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, নথিগুলি দেখায় যে ইয়র্কের ডিউক এবং তার প্রাক্তন স্ত্রীর এপস্টাইনের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, এমনকি তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও। নথিগুলিতে ব্রিটিশ ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসনের কথাও শত শত বার উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৩ সালে এক ইমেল আদান-প্রদানে, ব্র্যানসন জেফ্রি এপস্টাইনকে বলেছিলেন যে তার সাথে দেখা করা "সত্যিই ভালো" ছিল, তিনি আরও বলেন: "আপনি যখনই আশেপাশে থাকবেন তখনই আমি আপনাকে দেখতে চাই। যতক্ষণ আপনি আপনার হারেম নিয়ে আসবেন!" এপস্টাইন কেলেঙ্কারি কোনও বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক নয়।

লন্ডন, ওয়াশিংটন এবং অন্যান্য পশ্চিমা রাজধানীতে আজ যা ঘটছে তা নৈতিক শৃঙ্খলার গভীর সংকট এবং কয়েক দশক ধরে পশ্চিমারা যে ভান তৈরি করেছে তার মুখোশ উন্বোচন। ঐতিহাসিকভাবে, পশ্চিমা সভ্যতা সর্বদা দুর্নীতি, বৈষম্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কিন্তু আজকের পার্থক্য হল যে এই কেলেঙ্কারিগুলি সেই প্রতিষ্ঠানগুলির কেন্দ্রস্থলে ঘটছে যারা একসময় বিশ্বের নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরেছিল।

আধুনিক পশ্চিমা ইতিহাস জুড়ে, ইউরোপের রাজকীয় আদালতের কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে গির্জা, রাজনীতি এবং হলিউডে নৈতিক ও যৌন দুর্নীতির মামলা পর্যন্ত, এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। অতএব, মূল প্রশ্নটি হচ্ছে "পশ্চিমাদের নৈতিক স্খলনের ইতিহাস আছে কিনা" তা নয়, বরং কেন এই মুহূর্তে, এই বিশাল নৈতিক স্খললের বিষয়টি প্রকাশ করা হলো।

অনেক পশ্চিমা বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন যে এপস্টাইন মামলা অভিজাত শ্রেণীর পতনের প্রতীক। সম্পদ, মিডিয়া প্রভাব এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা দ্বারা বছরের পর বছর ধরে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। ইউরোপের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এপস্টাইন কেলেঙ্কারি ঘোষিত মূল্যবোধ এবং অভিজাতদের প্রকৃত আচরণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব এবং ব্যবধান প্রকাশ করে দিয়েছে।

তাদের মতে, পশ্চিমারা স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার উপর জোর দেয়, কিন্তু বাস্তবে, যখন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কথা আসে, তখন জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া ধীর, অস্পষ্ট এবং রক্ষণশীল। সমালোচকদের দৃষ্টিতে, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সতর্ক প্রতিক্রিয়া এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলির দীর্ঘসূত্রতা এই দ্বৈততার উদাহরণ। এই কেলেঙ্কারি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পশ্চিমাদের নৈতিক কর্তৃত্বের পতনেরও লক্ষণ।

এখন প্রশ্ন হলো, এই কেলেঙ্কারিগুলি কি "একটি গল্পের সমাপ্তি"? এমন একটি গল্প যা পশ্চিমা বিশ্বকে নীতি ও আইনের এক অতুলনীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সমালোচক সংবাদমাধ্যমগুলি বলছে যে গভীর সংস্কার ছাড়া এই প্রকাশগুলির ধারাবাহিকতা জনগণ এবং অভিজাতদের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। পরিশেষে, এপস্টাইন কেলেঙ্কারি ইঙ্গিত দেয় যে পশ্চিমা বিশ্ব কোনও নতুন ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং তার ইতিহাসের লুকানো স্তরগুলির উন্মোচনের মুখোমুখি হচ্ছে। "পশ্চিমারা কোথায় যাচ্ছে?" এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক প্রশ্নের চেয়ে বরং একটি নৈতিক প্রশ্ন। এর উত্তর নির্ভর করে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের অতীত এবং বর্তমান অবস্থার মুখোমুখি হতে ইচ্ছুক কিনা। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন