ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্ট
ইরানে আগ্রাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন মার্কিন শীর্ষ জেনারেল: রিপোর্ট
-
গত ৫ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলে মার্কিন সেনা-প্রধান জে: ড্যান কাইন; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণ করতে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা তিনি শীর্ষ সাংসদদের জানান
পার্স-টুডে: মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কাইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িত হওয়ার উচ্চ মাত্রার আশঙ্কা।
ওয়াশিংটন পোস্ট সোমবার রিপোর্ট করেছে যে কাইন হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গোলা-বারুদের সংকট এবং মিত্রদের সমর্থনের অভাবের বিষয়ে, যা মার্কিন সেনাদের বিপদে ফেলতে পারে।
একইভাবে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উল্লেখ করেছে যে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা মার্কিন ও মিত্রদের হতাহতের বিষয়ে সতর্ক। একইসঙ্গে তারা ইরানি ভূখণ্ডে সম্ভাব্য আঘাত হানার পর মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার আশঙ্কা সম্পর্কেও সতর্ক।
অ্যাকসিওস নিউজ আউটলেটও দাবি করেছে যে কাইন সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র "দীর্ঘকালীন সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।"
কিন্তু সোমবার ট্রাম্প রিপোর্টগুলি অস্বীকার করেছেন। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে দাবি করেছেন যে এটি "শতভাগ ভুল" যে কাইন "ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করার বিরুদ্ধে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিডিয়া আউটলেটগুলোকে অভিযুক্ত করেছেন যে সেগুলো "ভুল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল" লিখেছে।
তিনি আবারও ইরান এবং "তাদের জনগণের" বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে দাবি করেছেন যে যদি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির প্রতিস্থাপন নিয়ে চলমান আলোচনা চলাকালীন কোনো চুক্তি না হয়, তবে তাদের জন্য একটি "খুব খারাপ দিন" আসবে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির কপিটি ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে ছিঁড়ে ফেলে বাতিল করার ঘোষণা দেন, ফলে চুক্তিটি অচল হয়ে পড়েছিল। যদিও এই দুই দেশ এই মাসের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফা আলোচনা করেছে এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
এই রিপোর্টগুলো এমন সময়ে এসেছে যখন পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। সংবাদ মাধ্যম অ্যাকসিওস বলেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মধ্যেও, যেমন আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের মেয়ের জামাই জ্যারেড কুশনার প্রেসিডেন্টকে হুমকির পরিবর্তে কূটনীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
ওয়াশিংটন তার "সর্বাধিক চাপ"- প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রেখেছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় বিশাল সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে, যার মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ এক ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ, এবং একটি বড় যুদ্ধ বিমান বহর রয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণ, যা ইরানে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করার কথা বলেছে, যা তার নির্বাচনী প্রচারণার প্রতিশ্রুতির বিপরীত। তিনি পশ্চিম এশিয়ায় "শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের অচল যুদ্ধ" শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ইরান মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, এমনকি "সীমিত" আক্রমণ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো এবং ইসরায়েলের ওপর তৎক্ষণাত পাল্টা হামলা করবে। সোমবার, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও ঘোষণা করেছে যে, আক্রমণের আকার যাই হোক না কেন যে কোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে যুদ্ধ এবং অযৌক্তিক আগ্রাসন হিসেবে ধরে নেয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, "যে কোনো রাষ্ট্র আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া জানাবে তীব্রভাবে তার নিজস্ব আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে। তাই আমরাও তা-ই করব"। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।