যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র ক্ষমতার ধারণা কি শেষ হয়ে গেছে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i159162-যুক্তরাষ্ট্রের_একচ্ছত্র_ক্ষমতার_ধারণা_কি_শেষ_হয়ে_গেছে
পার্সটুডে- কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স বলেছেন, "ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর মার্কিন একচ্ছত্র ক্ষমতার কল্পকথা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।"
(last modified 2026-05-05T08:33:05+00:00 )
মে ০৫, ২০২৬ ১৪:৩২ Asia/Dhaka
  • •  কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স
    • কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স

পার্সটুডে- কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স বলেছেন, "ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর মার্কিন একচ্ছত্র ক্ষমতার কল্পকথা এখন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।"

কারণ এটি শুধু ব্যর্থ সামরিক অভিযানই নয়  এবং যে বিশ্ব একসময় আমেরিকার আধিপত্যের সুযোগ করে দিয়েছিল এখন তার আর অস্তিত্ব নেই। ওয়াশিংটন আর আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর ওপর তার অন্যায় ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারবে না। ইরানের নিষেধাজ্ঞা প্রক্সি যুদ্ধ এবং সরাসরি সংঘাত মোকাবিলা করেছে, তারা তাদের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রেখেছে, আঞ্চলিক জোটগুলোকে শক্তিশালী করেছে এবং আমেরিকার জবরদস্তিমূলক ক্ষমতার দুর্বলতা উন্মোচন করে দিয়েছে।

তাই কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফরি স্যাক্স যুক্তি দিয়েছেন, এই যুদ্ধ আমেরিকার জন্য শুধু একটি সামরিক পরাজয় নয়, বরং একটি কৌশলগত এবং আদর্শগত পরাজয়ও বটে। আমেরিকার রাজনৈতিক মহল এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরছে যেন ওয়াশিংটনের চাপ মোকাবেলাকারী যেকোনো দেশই বিশ্বের শৃঙ্খলা লঙ্ঘকারী। এভাবে তারা ইরানের প্রতিরোধকে একটি ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে নয় বরং ইরানের অবাধ্যতা হিসেবে দেখছে। তিনি বিশ্বকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বা কুক্ষিগত করার মার্কিন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ওয়াশিংটন নিজের ক্ষমতার ব্যাপারে অতিরিক্ত আাত্মবিশ্বাসী। রাশিয়া আর্থিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বেরিয়ে এসেছে, চীন প্রবল শক্তি নিয়ে সামনে এসেছে এবং ইরান প্রবল চাপ মোকাবেলা করতে শিখেছে। তাই আমেরিকা চাইলেই কারো অর্থনীতিকে স্থবির করে দিতে পারে- এই ধারণাার এখন আর অস্তিত্ব নেই।

সুতরাং, যখন ওয়াশিংটন সামরিক আধিপত্যের ধারণায় মগ্ন ছিল, তখন আসল পরিবর্তন ঘটছিল অন্যত্র। বিশ্বের ৬০ শতাংশ জনসংখ্যার আবাসস্থল এশিয়া শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে পশ্চিমা বিশ্বকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ কেবল একটি ধাক্কা ছিল না বরং এটি ছিল এমন একটি মুহূর্ত যখন আমেরিকা নিজেকে এমন এক বিশ্বের মুখোমুখি করেছে যা তার নিয়ন্ত্রণে নেই।

জেফরি স্যাকসের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারক মহল এমন এক মানসিকতার মধ্যে আটকা পড়েছে যা প্রতিটি স্বাধীন শক্তিকে হুমকি হিসেবে দেখে। এই বিশ্বদৃষ্টিতে কূটনীতি প্রায় অসম্ভব এবং সংঘাত নিশ্চিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই পশ্চিমা আধিপত্যের দীর্ঘমেয়াদী পতন কিংবা এশিয়ার উত্থানকে উল্টে দিতে পারবেন না। আসল সমস্যা ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব নয়, বরং এমন এক বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ওয়াশিংটনের অক্ষমতা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর একমাত্র পরাশক্তি নয়। স্যাক্স প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ওয়াশিংটন কি একটি বহুকেন্দ্রিক বিশ্বকে গ্রহণ করতে পারবে, নাকি এমন এক যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যেখানে বিজয়ি হওয়া সম্ভভ নয়? এই প্রশ্নের উত্তরই ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন