ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ইরানবিরোধী নয়া কৌশল
-
মোসাদের ইরানবিরোধী নয়া কৌশল
পার্সটুডে-ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হাইয়োম প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে মোসাদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
হাইয়োম জানিয়েছে, মোসাদ এখন আর কেবল হত্যাকাণ্ড ও সামরিক অভিযানেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা ইরানের ভেতরে প্রভাব বিস্তারমূলক যুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা তৈরির কৌশলের দিকে ঝুঁকেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোসাদের ভেতর “প্রভাব বিস্তারমূলক অপারেশন বিভাগ” নামে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। মোসাদ প্রধান ডেভিড বারনিয়ার নেতৃত্বে সংগঠনের কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সামরিক কাঠামোর পাশাপাশি দেশটির “রাজনৈতিক ও সামাজিক গভীরতা”কে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই কৌশল মূলত গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ইরানের ভেতরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে জনগণের আস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।
মোসাদের এক সাবেক কর্মকর্তা, যার নামের পরিবর্তে “আ” অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, দাবি করেছেন-এ ধরনের অভিযান হত্যাকাণ্ডের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল হলেও দীর্ঘমেয়াদে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সূত্র জানায়, মোসাদ শুধু গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমত বিশ্লেষণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবাদকে কাজে লাগানোসহ ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টির বৃহত্তর কৌশল নিয়েও কাজ করছে।
গত কয়েক বছরে মোসাদ উন্নত ডিজিটাল সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যার মধ্যে তথাকথিত “ডিজিটাল আর্মি”, ভুয়া অ্যাকাউন্ট নেটওয়ার্ক এবং বিদেশভিত্তিক বিরোধী গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসবের লক্ষ্য হচ্ছে সংগঠিত বার্তা ছড়িয়ে ইরানের অভ্যন্তরে প্রভাব সৃষ্টি করা।
তবে এতসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে যে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখনো টিকে আছে এবং “দ্রুত পতন”-এর যে ধারণা কিছু ইসরায়েলি নীতিনির্ধারণী মহলে কল্পনা করা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হয় নি। এর ফলে এই কৌশলের কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনটি শেষ করা হয়েছে এই বলে: ইরানকে ঘিরে সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক একটি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে গোয়েন্দা তৎপরতা, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং ইরানের জনগণের অভ্যন্তরীণ মনোভাবকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা একসঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।#
পার্সটুডে/এনএম/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।