আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে এক নারীকে হত্যার প্রতিবাদ এতো বিস্তৃতি পেল কেন?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i155940-আমেরিকার_মিনিয়াপোলিসে_এক_নারীকে_হত্যার_প্রতিবাদ_এতো_বিস্তৃতি_পেল_কেন
পার্সটুডে-আমেরিকার মিনিয়াপোলিস আবারও গণবিক্ষোভের কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
জানুয়ারি ০৯, ২০২৬ ১৯:১০ Asia/Dhaka
  • আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে এক নারীকে হত্যার প্রতিবাদ
    আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে এক নারীকে হত্যার প্রতিবাদ

পার্সটুডে-আমেরিকার মিনিয়াপোলিস আবারও গণবিক্ষোভের কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে।

৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আমেরিকার একজন ইমিগ্রেশান অ্যান্ড কাস্টমস অফিসার (আইসিই) ৩৭ বছর বয়সী এক মার্কিন মহিলাকে গুলি করে হত্যা করে। রেনি নিকোল গুড নামের ওই মহিলা ছিলেন তিন সন্তানের জননী। তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আমেরিকার মিনিয়াপোলিস এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসে সমবেত হয় এবং আইসিই কর্মকর্তার হাতে নিকোল গুডের হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানায়।

বিক্ষোভকারীরা 'রেনির জন্য ন্যায়বিচার' এবং 'রাষ্ট্রীয় সহিংসতা' যথেষ্ট হয়েছে বলে শ্লোগান দেয়। বিক্ষোভ এরইমধ্যে শিকাগো, পোর্টল্যান্ড, ফিনিক্সি এবং নিউ ইয়র্কের মতো শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা ২০২০ সালের জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার পর সংঘটিত বিক্ষোভের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। শহরটি এখন আমেরিকার নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞগণ এই ঘটনাকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত 'অভিভাষণ নীতির নিরাপত্তা'র সরাসরি ফল বলে মনে করেন।

এই প্রতিবেদনে ফেডারেল বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি বিশেষ করে আইসিই'র কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব বৃদ্ধির ফলে অভিবাসীসহ স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠির সাথে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করা হয়। খুব কাছ থেকে রেনি গুডকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় গণবিক্ষাভ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসাথে রাজনৈতিক সমালোচনা এবং কর্মকর্তাদের 'আত্মরক্ষা'র দাবি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মিনিয়াপোলিসের গভর্নর জ্যাকব ফ্রেই ফেডারেল সরকারের বর্ণনাকে 'অবাস্তব এবং অবমাননাকর' বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিবাসন বাহিনীকে শহর থেকে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালেসও এই ঘটনার সুস্পষ্ট তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন।

পক্ষান্তরে ফেডারেল সরকার এবং স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্যুটার কর্মকর্তাকে রক্ষা করে আবারও জনমত বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প ট্রুথ স্যোশাল নেটওয়ার্কে লিখেছেন: আইসিই কর্মকর্তা তাঁর সহকর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন।

Center for American Progress এর বিশ্লেষণ হলো মিনিয়াপোলিসের ঘটনা প্রমাণ করে ট্রাম্পের অভিভাসন নীতি প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং কার্যত হিংসাত্মক ও অবাধ্য। এই প্রতিষ্ঠানটি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে ফেডারেল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে সামাজিক আস্থা ও বিশ্বাস উঠে যাবে। আলজাজিরা এবং নিউইয়র্ক টাইমসের মতো মিডিয়াগুলোও লিখেছে মার্কিন সমাজে 'জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচারে'র মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।#

পার্সটুডে/এনএম/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন