কারাকাস থেকে মিনিয়াপলিস; হুমকি কি একই রকম?
-
মিনেসোটাতে পুলিশ অফিসারের গুলিতে রেনি নিকোল গুডের মৃত্যু
পার্সটুডে-দ্য গার্ডিয়ান সংবাদপত্র এক নিবন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনব্যবস্থার ধরণ নিয়ে আলোচনা করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ান ওই নিবন্ধে লিখেছে: গত সপ্তাহটি শুরু হয়েছিল আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় তার "প্রশাসন" ঘোষণা দিয়ে এবং শেষ হয়েছিল ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি দিয়ে যে, তার একমাত্র সীমা "তার নিজস্ব নৈতিকতা এবং মন"। এই বিবৃতিগুলো তার শাসনব্যবস্থার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। এটি এমন এক শাসনব্যবস্থা যার কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক নিয়ম কানুনের চেয়ে বলদর্পির আচরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পার্সটুডে আরও জানায়, ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প সেই আচরণ লুকানোরও চেষ্টা করেন নি। তিনি না গণতন্ত্র, না মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই-কোনোকিছু সম্পর্কেই কথা বলেননি। তিনি খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করেছেন যে মূল সমস্যাটি হলো তেল; এটা এমন এক সরল স্বীকারোক্তি, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির সমালোচকরা বছরের পর বছর ধরে যে বিষয়ে সোচ্চার কণ্ঠে বলে আসছিলেন এবং এখন প্রেসিডেন্ট নিজেই তা ট্রাম্পের মুখেই শুনতে পেয়েছেন।
তার এই স্পষ্টভাষণ, যদিও হতবাক করার মতো, প্রমাণ করে যে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুক্তি অন্যান্য দেশের সম্পদের ব্যাপারে সরাসরি প্রভাব এবং শোষণের ওপর ভিত্তি করে। কিউবা, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে তার পরবর্তী হুমকি, এমনকি মেক্সিকোতে বিমান হামলার ইঙ্গিতও একই ধরণকে আরও শক্তিশালী করে: অন্যদের বাধ্য করার জন্য ভয় তৈরি করা।
কিন্তু এটি কেবল পররাষ্ট্র নীতি নয়। চাপ এবং ভয় দেখানোর একই ধরণ দেশের অভ্যন্তরেও ব্যবহৃত হচ্ছে। কয়েক মাস ধরে, মুখোশধারী ফেডারেল বাহিনী দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাখ্যা ছাড়াই মানুষকে গ্রেপ্তার করে আসছে। মিনিয়াপলিসে, রেনি নিকোল গুডের হত্যার পর, প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেছেন সশস্ত্র লোকেরা রাস্তা অবরোধ করে মানুষকে অপহরণ করছে। এই আচরণগুলো প্রমাণ করে ট্রাম্প প্রশাসন নিরাপত্তা সরঞ্জামগুলো মানুষকে রক্ষা করার জন্য নয়, বরং ভয় দেখানোর জন্য এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবহার করে।
মিথ্যা এই ক্ষমতার কাঠামোর আরেকটি স্তম্ভ। ট্রাম্প প্রশাসন সত্যকে মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করছে। মাদক পাচারের ভিত্তিতে ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের ন্যায্যতা এবং গুডের হত্যার প্রকৃত সত্যকে স্পষ্টভাবে বিকৃত করা এই মিথ্যার উদাহরণ। এই পদ্ধতি ট্রাম্প প্রশাসনকে তার কঠোর পদক্ষেপগুলোকে বৈধতা দিতে এবং যেকোনো বিরোধী দলকে অসম্মান করতে সক্ষম করে।
পরিশেষে, ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি যে তার একমাত্র সীমা হল "নিজের নৈতিকতা", তা প্রমাণ করে যে তিনি আন্তর্জাতিক আইন থেকে শুরু করে দেশীয় বিচার বিভাগ পর্যন্ত-নিয়ন্ত্রক কাঠামোগুলোকে কোনো গুরুতর বাধা হিসেবে দেখেন না। এই দৃষ্টিভঙ্গি এমন একজনের চিত্র তুলে ধরে যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা চায় এবং নিজেকে রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়মের উর্ধ্বে রাখে।#
পার্সটুডে/এনএম/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন