ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কভার করতে 'অজ্ঞাতনামা কর্মীদের' ওপর পশ্চিমা গণমাধ্যমের নির্ভরতা
পার্সটুডে - আল-মায়াদিন টিভি ইরানের সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে পশ্চিমা গণমাধ্যমের অস্পষ্ট এবং অস্বচ্ছ উৎসের উপর নির্ভরতার সমালোচনা করে সতর্ক করেছে যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থিত ইরানি মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে; এমন একটি পদ্ধতি যা পেশাদার সাংবাদিকতার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
আল-মায়াদিন টিভি একটি প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কিত সংবাদ এবং পরিসংখ্যান প্রকাশে বিশিষ্ট পশ্চিমা গণমাধ্যমের অ-পেশাদারী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে এই গণমাধ্যমগুলোর অনেকগুলো "অজ্ঞাতনামা কর্মী" নামক উৎস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে।
নেটওয়ার্কটি লিখেছে, "অজ্ঞাতনামা কর্মী" শব্দটি বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন এবং রয়টার্সের মতো গণমাধ্যমে ইরান সম্পর্কে সংবাদকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় যেখানে পেশাদার সাংবাদিকতা স্বচ্ছতা এবং উৎসের নির্দিষ্টতার উপর ভিত্তি করে।
উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত এবং মার্কিন NED বা ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি দ্বারা অর্থায়িত ইরান ভিত্তিক একটি কথিত মানবাধিকার সংস্থা ইরানি বিক্ষোভের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে। সংগঠনটি নিজেদের স্বাধীন বলে দাবি করে কিন্তু আল-মায়াদিন জানিয়েছে যে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন সরকারের সাথে সম্পর্কিত উৎস থেকে তারা ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছে। আল-মায়াদিন ইরানে হিউম্যান রাইটস ওয়াচেরও উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যারা স্বাধীন বলে দাবি করে কিন্তু মার্কিন করদাতা এবং মার্কিন সরকারি ফ্রন্ট দ্বারা অর্থায়ন করা হয় এবং যার নির্বাহী পরিচালক বার্ষিক কয়েক লাখ ডলার বেতন পান।
প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে পশ্চিমা গণমাধ্যমের এই ধরনের উৎসের উপর নির্ভরতা কেবল পেশাদার সাংবাদিকতার নীতির সাথেই অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তথ্য বিকৃতি এবং লুকানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়, যা এই প্রতিবেদনের নির্ভুলতা এবং নিরপেক্ষতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।