যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ব্যাপক জনবিক্ষোভ: ইরানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156412-যুক্তরাষ্ট্রের_মিনিয়াপলিসে_ব্যাপক_জনবিক্ষোভ_ইরানের_প্রতি_আন্তর্জাতিক_সমর্থন
পার্সটুডে-লেবানন ও ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সাথে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
(last modified 2026-02-17T14:37:08+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১৩:৩৭ Asia/Dhaka
  • যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ব্যাপক জনবিক্ষোভ
    যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ব্যাপক জনবিক্ষোভ

পার্সটুডে-লেবানন ও ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সাথে সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

পার্সটুডে লিখেছে, লেবানন ও ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ইরানের পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয় বরং একটি নৈতিক ও ধর্মীয় কর্তব্য। বিশ্বের নিপীড়িত জাতিগুলির প্রতি ইরানের ঐতিহাসিক ও অব্যাহত সমর্থন এবং দখলদারদের সাথে লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে এক অনুষ্ঠানে তারা ইরানের প্রতি সংহিত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশিষ্ট সুন্নি পণ্ডিত এবং লেবাননের উম্মাহ আন্দোলনের মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ জাবরি অনুষ্ঠানে বলেন, 'ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আক্রমণ এই কারণে যে ইরান ধারাবাহিকভাবে মজলুম ফিলিস্তিনিদের সমর্থন  করেছে। ফিলিস্তিন কেবল একটি রাজনৈতিক সমস্যা নয় বরং একটি ধর্মীয় ও আদর্শিক সমস্যা।'

ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ আন্দোলনের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহফুজ মুনাওয়ার আরও বলেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মিথ্যা পরিকল্পনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইরানকে টার্গেট করা হয়েছে। চাপ সত্ত্বেও, ইরান ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করে চলেছে।

এদিকে, দেশটির রাজধানী বাগদাদে ইরাকিরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি তাদের সমর্থন জানাতে বিক্ষোভ করেছে। ইরানের পতাকা এবং ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ  নেতা ইমাম খামেনেয়ীর ছবি বহন করে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন 'হে আলী, আমরা সর্বোচ্চ নেতার সৈনিক'।

লেবানন এবং ফিলিস্তিনি ব্যক্তিত্বরা ইরান এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খামেনেয়ীর প্রতি সমর্থন 

ফেডারেল অফিসারদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মিনিয়াপলিসে ব্যাপক বিক্ষোভ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে আবারও বিশাল বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বিক্ষোভগুলো দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। শনিবার সকাল থেকে মিনিয়াপলিসের রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মিনিয়াপলিসের রাস্তায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা 'লজ্জা' লজ্জা' বলে স্লোগান দেয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে ব্যাপক জনতা বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনিপন্থি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র:  নিউ ইয়র্ক টাইমস

এদিকে, আমেরিকান সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে,  ফিলিস্তিন এবং গাজা বিষযে একটি প্রতিবেদন পাওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেশ কয়েকজন ছাত্র কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। প্রতিবেদন অনুসারে, এই শিক্ষার্থীরা আইনত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ফিলিস্তিনিপন্থি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। তারা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করেন

হাভানা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে: কিউবা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো হাভানায় ওয়াশিংটনের হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। কলম্বিয়ায় নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত কার্লোস বিদ্রা বলেছেন, গত ৬৭ বছরে হাভানা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। আল জাজিরার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বাইদ্রা আরও বলেন, ক্যারিবিয়ান সাগরে ওয়াশিংটন জলদস্যুতা করছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন কিউবায় তেল প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং কিউবাকে নৌ অবরোধের আওতায় আনার চেষ্টা করছে। বাইদ্রা বলেন, এক ফোঁটা তেলও না পৌঁছালেও কিউবা মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিরা যেমন তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে, কিউবাও তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

কিউবা: হাভানা ওয়াশিংটনের সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখোমুখি

মানবিক সংকটের তীব্রতা সম্পর্কে গাজার জনপ্রিয় সংগঠনগুলির সতর্কীকরণ

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ হুইটেকার এবং জ্যারেড কুশনার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে দেখা করেছেন। গাজার পিপলস অর্গানাইজেশন নেটওয়ার্কের পরিচালক এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল এবং কঠিন হয়ে উঠেছে। আমজাদ আল-শাওয়া আল জাজিরাকে বলেন, কমপক্ষে ১৮,৫০০ মানুষকে জরুরিভাবে গাজার বাইরে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা প্রয়োজন। তিনি সেখানকার জীবনযাত্রার অবনতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, 'গাজা উপত্যকার ৯০ শতাংশ বাসিন্দা সরাসরি মানবিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল এবং অব্যাহত বিধিনিষেধ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে একটি গুরুতর সংকটে ফেলেছে।'

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি

পার্সটুডে/জিএআর/২৫