মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কী পরিণতি হতে পারে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156420-মার্কিন_অভিবাসন_দপ্তরের_বিরুদ্ধে_বিক্ষোভের_কী_পরিণতি_হতে_পারে
পার্সটুডে: মিনিয়াপোলিস শহরে নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ যদি কোনো সমাধানে না পৌঁছায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট সংকটের মতো একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কটের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
(last modified 2026-01-26T11:36:37+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১৬:৪৩ Asia/Dhaka
  • মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কী পরিণতি হতে পারে?

পার্সটুডে: মিনিয়াপোলিস শহরে নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ যদি কোনো সমাধানে না পৌঁছায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট সংকটের মতো একটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কটের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি শনিবার মিনিয়াপোলিস শহর আবারও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ও জনরোষের ঢেউয়ের সাক্ষী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং বর্ডার পেট্রোলের ফেডারেল এজেন্টরা ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স জেফরি প্রেটি (Alex Jeffrey Pretti) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে। প্রেটি মিনিয়াপোলিস ভেটেরান্স হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের একজন নার্স ছিলেন, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ অভিবাসন কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ছিল না।

ঘটনাটি মিনিয়াপোলিসের দক্ষিণাঞ্চলে ঘটে, যেখানে ফেডারেল এজেন্টরা দৃশ্যত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির আওতায় একটি অভিযান পরিচালনা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, অ্যালেক্স প্রেটি হাঁটছিলেন। তিনি কোনো সশস্ত্র হুমকি সৃষ্টি করছিলেন বলে মনে হয়নি।

অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি অস্ত্র বের করার চেষ্টাও করেননি। তবে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে যে, এজেন্ট আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছে। এই দাবি প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। সরকারি বক্তব্য ও জনগণের ভিডিওর মধ্যে এই বিরোধই বিক্ষোভের আগুনকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এই গুলিবর্ষণটি মিনিয়াপোলিসে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ঘটনা। এর দুই সপ্তাহ আগে, রেনে গুড (Renee Good) নামের এক নারীও আইসিই এজেন্টদের হাতে নিহত হন, যে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে জনমতকে নাড়া দিয়েছিল।

পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিবাদী ইতিহাস থাকা একটি শহরে (২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে পরবর্তী বহু ঘটনার প্রেক্ষাপটে), এই ধারাবাহিকতা জনসাধারণের প্রতিক্রিয়াকে দ্রুত ও তীব্র করে তুলেছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী, নার্সদের ইউনিয়ন, ভেটেরান্স সংগঠন এবং বর্ণগত ন্যায়বিচারকামী গোষ্ঠীগুলো দ্রুত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে মিনেসোটা থেকে আইসিই বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার, আগ্রাসী অভিবাসন অভিযান অবিলম্বে স্থগিত এবং স্বাধীন ফেডারেল তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মকর্তারা এখনো তাদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বিভাগের এক মুখপাত্র এই গুলিবর্ষণকে “হুমকির মুখে এজেন্টের বৈধ পদক্ষেপ” বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে প্রেটি প্রতিরোধ করছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, “ফেডারেল বাহিনী আইন রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে এবং তাদের কাজে বাধা দেওয়া উচিত নয়।”

অ্যালেক্স জেফ্রি প্রেটির হত্যার পর মিনিয়াপোলিসে ব্যাপক বিক্ষোভের শিকড় কয়েকটি গভীর স্তরে প্রোথিত, যা ফেডারেল নীতি, শহরের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক তাৎক্ষণিক ঘটনাবলীর সমন্বয়ে গঠিত।

বিশেষ করে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য ও মিনিয়াপোলিস শহরে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিগুলো এই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক নাগরিক এই পদক্ষেপগুলোকে শুধু অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধেই নয়, বরং পুরো অভিবাসী সমাজ এমনকি মার্কিন নাগরিকদের জন্যও হুমকি হিসেবে দেখছেন।

মিনিয়াপোলিসের পুলিশি হিংসা ও বিক্ষোভের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার গভীর ক্ষত এখনও সারেনি। দুজন মার্কিন নাগরিকের (রেনি গুড ৭ জানুয়ারি এবং অ্যালেক্স প্রেটি ২৪ জানুয়ারি) ফেডারেল এজেন্টদের হাতে নিহত হওয়া সঙ্গে সঙ্গে ২০২০-এর স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। শহরের মানুষের মনে হচ্ছে আবারও একটি সশস্ত্র সরকারি বাহিনী যথেষ্ট জবাবদিহিতা ছাড়াই নাগরিকদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এবার পার্থক্য এই যে, এজেন্টরা স্থানীয় পুলিশ নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সরাসরি কাজ করা ফেডারেল বাহিনী। তাই বিক্ষোভ খুব দ্রুত ফেডারেল বিরোধী রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, মিনেসোটায় আইসিই কার্যক্রমের বিরোধী একজন সামাজিক কর্মী এবং ভেটেরান্স হাসপাতালের নার্স হিসেবে অ্যালেক্স প্রেটির পরিচয় তার হত্যাকে ঘিরে বিক্ষোভকে আরও তীব্র করেছে। যদি ফেডারেল সরকারের আইসিই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার দাবি এবং কিছু অঙ্গরাজ্যের সেই কার্যক্রম বন্ধের দাবির মধ্যে কোনো মধ্যপন্থী সমাধান না আসে, তাহলে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে রাজনৈতিক-নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছিল, তার মতো একটি সঙ্কট আবারও পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২৪