মের্শেইমার: ইরানে আবারো ব্যর্থ হলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের 'দ্বৈত দল'
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156430-মের্শেইমার_ইরানে_আবারো_ব্যর্থ_হলো_ইসরায়েল_ও_যুক্তরাষ্ট্রের_'দ্বৈত_দল'
পার্সটুডে- ইরানে অর্থনৈতিক উৎস থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে প্রখ্যাাত মার্কিন তাত্ত্বিক এবং বিশ্লেষক জোর দিয়ে বলেছেন যে "ইরানে যা ঘটেছিল তা ছিল ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'দুই সদস্যের দল' দ্বারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি যৌথ প্রচেষ্টা যা ব্যর্থ হয়েছে।"
(last modified 2026-01-25T13:00:24+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১৮:৪০ Asia/Dhaka
  • নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প
    নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প

পার্সটুডে- ইরানে অর্থনৈতিক উৎস থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে প্রখ্যাাত মার্কিন তাত্ত্বিক এবং বিশ্লেষক জোর দিয়ে বলেছেন যে "ইরানে যা ঘটেছিল তা ছিল ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'দুই সদস্যের দল' দ্বারা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য একটি যৌথ প্রচেষ্টা যা ব্যর্থ হয়েছে।"

পার্সটুডে অনুসারে, আমেরিকান ওয়েবসাইট "অ্যান্টিওয়ার" জন মের্শেইমারের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, পশ্চিমা মূলধারার মিডিয়া ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসাবে চিত্রিত করতে বদ্ধপরিকর। এই বর্ণনায় প্রায় সকল বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণ ছিলেন কিন্তু তাদের বিক্ষোভ সরকার দ্বারা সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছিল এবং এই বিক্ষোভে বিদেশী শক্তির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

ইরানে যা ঘটেছিল তার এই ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এর বিরোধিতা করার জন্য প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। অবশ্যই, এর অর্থ সরকারের কাছ থেকে প্রকৃত দাবি নিয়ে বিপুল সংখ্যক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর উপস্থিতি অস্বীকার করা নয়, তবে এটি গল্পের একটি অংশ মাত্র।

প্রকৃতপক্ষে, ইরানে যা ঘটেছিল তা ছিল তেহরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে উৎখাত এবং ইরানকে বিভক্ত করার জন্য ইসরায়েলি এবং আমেরিকান "দুই সদস্যের দল" দ্বারা একটি যৌথ প্রচেষ্টা; ঠিক যেমনটি আমেরিকা, তুরস্ক এবং ইসরায়েল সিরিয়াকে বিভক্ত করেছিল। ইরানে এই পদ্ধতি বা "ম্যানুয়াল" আমরা আগে যা দেখেছি তার মতোই এবং চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত:

প্রথম উপাদান; আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য তৎপর। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রচেষ্টাগুলোকে আরো তীব্র করে তুলেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ইরানের অর্থনীতির উপর "সর্বোচ্চ চাপ" প্রয়োগ করা, এবং তিনি ঠিক তাই করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল ইরানি জনগণকে জেগে উঠতে এবং তাদের ওপর ক্রমবর্ধমান যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ চাপিয়ে সরকারকে উৎখাত করতে বাধ্য করা।

দ্বিতীয় উপাদান; এই দুই সদস্যের দলটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে সরকারকে সহিংস প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করার জন্য সহিংস বিক্ষোভকে উস্কে দেওয়া এবং সমর্থন করা শুরু করে এই আশায় যে এই প্রতিক্রিয়া সহিংসতার একটি অনিয়ন্ত্রিত চক্রের দিকে পরিচালিত করবে। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে মোসাদ এজেন্টরা ইরানের রাস্তায় উপস্থিত ছিল এবং অবশ্যই সিআইএ এজেন্টরা তাদের সাথে কাজ করছিল। তারা স্থানীয় এবং দেশীয় আন্দোলনকারীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিল, যারা ধ্বংস ও হত্যা করতে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সহিংস বিক্ষোভে পরিণত করতে এবং সরকারকে সহিংসতার আশ্রয় নিতে বাধ্য করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। এই আন্দোলনকারীদের এবং দেশীয় আন্দোলনকারীদের অসংখ্য ভিডিও রয়েছে। এছাড়াও, এই "দুই সদস্যের দল" বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগে হাজার হাজার স্টারলিংক টার্মিনাল ইরানে পাঠিয়েছিল। সরকার যদি ইন্টারনেট এবং ফোন ব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করে,তবে এই টার্মিনালগুলো বিক্ষোভকারীদের একে অপরের সাথে এবং তাদের বিদেশী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেবে। ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন স্বাভাবিক ছিল এবং অবাক করার মতো কিছু ছিল না। “দেশপ্রেমিক ইরানিরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যাও-সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করো! সাহায্য আসছে। গত ১৩ জানুয়ারি ট্রাম্প এসব কথা বলেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে প্রথম সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও চলতি বছর ২ জানুয়ারি বলেছিলেন,“রাস্তায় থাকা সমস্ত ইরানিদের এবং প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকে যারা আপনার পাশে হাঁটছে তাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা।” ঠিক যখন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মোসাদ ইরানিদের কাছে ফার্সি ভাষায় একটি বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিল, “একসাথে রাস্তায় নেমে এসো। সময় এসেছে। আমরা তোমাদের সাথে আছি। শুধু দূর থেকে এবং কথায় নয় বরং তোমাদের সাথে মাঠেও আছি।”

তৃতীয় উপাদান: পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো এই "দ্বৈত চক্রের" সাথে ছিল এবং বিক্ষোভগুলোকে বিদেশী হস্তক্ষেপের ফলাফল নয় বরং মূলত তেহরানের সরকারি নীতির প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসাবে চিত্রিত করেছিল; তাছাড়া, বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ ছিল এবং সরকারই ছিল সহিংসতার সূত্রপাতকারী। স্বাভাবিকভাবেই এই বর্ণনায় ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালো লোক হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই প্রচারণা কেবল বিক্ষোভের জন্য পশ্চিমা সমর্থন আদায়ের জন্যই নয় বরং ইরানের অভ্যন্তরের পরিবেশকে প্রভাবিত করার জন্যও তৈরি করা হয়েছিল।

চতুর্থ উপাদান: মার্কিন সামরিক বাহিনী (এবং সম্ভবত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী) বিক্ষোভ চরমে পৌঁছানোর সাথে সাথে ইরানে আক্রমণ করতে ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার এবং ইরানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য প্রস্তুত ছিল; এমন বিশৃঙ্খলা যা তারা আশা করেছিল যে দেশটি ভেঙে পড়বে।

তবে মের্শেইমারের মতে এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে এবং এই ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল ইরান সরকার বিক্ষোভ বন্ধ করতে সফল হয়েছিল। এর সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল স্টারলিংক শাটডাউন, যা বিক্ষোভকারীদের একে অপরের সাথে এবং বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছিল। এই পদক্ষেপের পর, বিক্ষোভ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প উভয়েই বুঝতে পারেন যে তারা আর সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তাদের এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন না। ইরানি সরকার টিকে আছে এবং তার আগের অবস্থান জোরালোভাবেই বজায় রেখেছে।#

পার্সটুডে/এমবিএ/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন