মিনেসোটার রাস্তাগুলোর গল্প: ফাঁকা গির্জা, নীরব রাস্তা আর আতঙ্কিত মানুষ
-
মিনেসোটায় ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত
পার্সটুডে- বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে নতুন অভিবাসন আইনগুলো মিনেসোটার রাস্তায় ভয়, ক্ষোভ ও অবিশ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনেসোটার রাস্তাগুলো মানুষশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সন্দেহ ও ক্ষোভে ভরে গেছে; ভয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গ্রাস করেছে। নিচের প্রতিবেদনটি বিবিসির প্রতিবেদক আনা ফাগুই–এর বরাত দিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে। তাঁর মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে তিনি এমন এক প্রাণঘাতী আতঙ্কের কথা বলেছেন, যা মিনেসোটার রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। মানুষজন প্রত্যেক অপরিচিত ব্যক্তি এবং স্থানীয় নয়-এমন নম্বরপ্লেটের প্রতিটি গাড়িকে ক্ষোভ ও উদ্বেগ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
যে শহর শ্বাস নেয় না
বিবিসির প্রতিবেদক মিনেসোটার রাস্তায় বেরিয়ে দেখেছেন, ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপগুলো শহরের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে। মানুষ ও গাড়িশূন্য রাস্তায় গাড়ি চালাতে চালাতে তিনি এই শহরের ওপর নেমে আসা ভয়, আতঙ্ক ও ক্ষোভের ছায়ার কথা জানান। তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের খুঁজে পাওয়াই ছিল কঠিন। আতঙ্কে ভরা মুখ ও যন্ত্রণাময় কথাবার্তাই শহরবাসীর ওপর চেপে বসা ভয় ও আতঙ্কের গভীরতা প্রকাশ করে।
আমরা জানি না, পরের জন কে
অশ্রুসজল চোখে এক নারী আনা ফাগুই-কে বলেন, “আমরা সবাই আতঙ্কিত। যারা বৈধভাবে এখানে ছিল তারাও ভয়ে আছে। আমরা জানি না, ওদের লক্ষ্য আসলে কে? কাকে আটকাতে চায়? কী করতে চায়—কিছুই জানি না।”
এমনকি নম্বরপ্লেটও সতর্কবার্তা দেয়
আনা ফাগুই বলেন, “এই ভয়ের ছায়া আমরা তখনই টের পাই, যখন এমন একটি গাড়িতে করে শহরে ঘুরতে শুরু করি যার নম্বরপ্লেট মিনেসোটার নয়। মানুষ খোলা চোখে আমাদের ওপর নজর রাখছিল। সামনে বা পেছন দিয়ে যাওয়ার সময় তারা গাড়িটিকে খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। মানুষের এই আচরণ স্পষ্টভাবে তাদের ওপর চেপে বসা ভয় ও আতঙ্ক আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়।”
মিনেসোটায় মানুষ অপরিচিত গাড়ির পাশ দিয়েও ভয়ে ভয়ে হেঁটে যায়
এক তরুণী বিবিসির প্রতিবেদককে বলেন, “আমি আগে সপ্তাহে তিনবার পরিবারের সঙ্গে গির্জায় যেতাম। কিন্তু অভিবাসন পুলিশ আইসিই আমাদের গির্জার একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর আমরা বাধ্য হয়ে অনলাইন উপাসনায় অংশ নিচ্ছি। এটা খুব কঠিন; কারণ আমি আর বন্ধুদের দেখতে পারি না। এমনকি পরিবারকেও আর একসঙ্গে দেখতে পারি না, যাদের সঙ্গে গির্জায় যেতাম। বাইরে যেতে হলেও আমাদের সব সময় ভয়ে থাকতে হয়, সজাগ থাকতে হয়। সব সময় লক্ষ্য রাখতে হয় আইসিই পুলিশের পরবর্তী অভিযান কখন হবে।”
পার্সটুডে/এসএ/২৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।