ট্রাম্পের পথে স্টারমার: ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ
-
স্টারমার
পার্সটুডে- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের আগ্রাসী পদক্ষেপ বিশেষ করে আরব সাগরে অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও ভিত্তিহীন দাবি উত্থাপন করেছেন। এরপর তিনি বলেন, প্রথম অগ্রাধিকার হলো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
চীনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হলো এটা নিশ্চিত করা যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি অর্জন করতে পারবে না। আমরা সবাই এই বিষয়ে পুরোপুরি একমত এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছি। এটি হলো মূল ক্ষেত্র যেখানে আমি আমাদের মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছি।”
যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, মার্কিন আগ্রাসী পদক্ষেপ ঠিক কি না, তিনি দাবি করেন, “আমরা সবাই একমত যে, ইরানকে সেই পারমাণবিক কর্মসূচি অর্জন করতে না দেওয়াই প্রথম অগ্রাধিকার এবং আমরা ঠিক সেই বিষয়েই কাজ করছি।”
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময় পশ্চিমের রাজনৈতিক চাপ এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে।
ইরান পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ স্বাক্ষরের পর সমস্ত প্রতিশ্রুতি মেনে চলেছে, কিন্তু ২০১৮ সালের মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে। ইউরোপও শেষ পর্যন্ত চুক্তির আওতায় দায়িত্ব পালন করে নি।
বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কিয়ের স্টারমারের বক্তব্য বিশেষকরে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন অভিযোগ তোলাকে অনেক পর্যবেক্ষক লন্ডন ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বৃহত্তর মনস্তাত্ত্বিক ও প্রচারমূলক সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। এই সমন্বয় শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং এটা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, নতুন ব্রিটিশ সরকার স্বাধীন নীতি গ্রহণের পরিবর্তে, মার্কিন চাপ এবং প্রচারের সীমানায় থেকে কার্যক্রম চালানোর পথটাকেই বেছে নিয়েছে।#