ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের নিন্দা জাতিসংঘের মহাসচিবের
https://parstoday.ir/bn/news/world-i157418-ইরানে_যুক্তরাষ্ট্র_ও_ইসরায়েলের_সামরিক_আগ্রাসনের_নিন্দা_জাতিসংঘের_মহাসচিবের
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ‌আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন।
(last modified 2026-03-01T12:30:42+00:00 )
মার্চ ০১, ২০২৬ ১৮:২৫ Asia/Dhaka
  • আন্তোনিও গুতেরেস
    আন্তোনিও গুতেরেস

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ‌আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থার ইরনা জানিয়েছে, জাতিসংঘ সনদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ভিত্তি প্রদান করে জানিয়ে আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “সব সদস্য রাষ্ট্র তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা তার হুমকি থেকে বিরত থাকবে।”

গুতেরেস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সব সময় মেনে চলতে হবে। সেই কারণেই আজ সকাল থেকে আমি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলার নিন্দা করে আসছি। এছাড়াও, ইরানের পরবর্তী হামলাগুলোর (মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে), যা বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে, সেগুলোরও নিন্দা জানাই।”

জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি প্রত্যক্ষ করছি। সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চলে ঘটনাবলীর এক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার ঝুঁকি বহন করে, যা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। স্থায়ী শান্তি কেবল শান্তিপূর্ণ উপায়ে, যার মধ্যে সংলাপ ও প্রকৃত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত, অর্জন করা সম্ভব।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, তেহরান, ইস্ফাহান, কোম, শাহরিয়ার ও তাবরিজসহ ইরানজুড়ে প্রায় ২০টি শহরে হামলা হয়েছে। তেহরানে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় সংবলিত এলাকায় বড় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হরমুজগান প্রদেশের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে বিমান হামলায় অন্তত ৮৫ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছে। তেহরানের একটি স্কুলে আঘাত হানার ফলে দুইজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন: সামরিক কার্যক্রম দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যা ভুল হিসাবের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

গুতেরেস যোগ করেন: ইসরায়েলি সূত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলের ওপর ইরানের পরবর্তী হামলায় আট থেকে নয়জন আহত হয়েছে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরেও প্রভাব পড়েছে। ইরান ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলাগুলো আমি আগে উল্লেখ করা দেশগুলোর বেসামরিক এলাকা ও অবকাঠামোর ক্ষতি করেছে। লেবানন ও সিরিয়াতেও পরোক্ষ প্রভাবের খবর পাওয়া গেছে।

গুতেরেস বলেন, অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশ ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ইরাকে উভয় পক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে বলেও প্রতিবেদন রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনার পর ঘটেছে। আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি আলোচনার প্রস্তুতি এবং তার পর নতুন রাজনৈতিক আলোচনার পরিকল্পনা ছিল। আমি দুঃখিত যে, এই কূটনৈতিক সুযোগ হারিয়ে গেছে।

গুতেরেস বেসামরিক নাগরিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বিস্তৃত সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন: আমি সকল পক্ষকে জোরালোভাবে আহ্বান জানাই যে তারা অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসুক, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে।

তিনি উল্লেখ করেন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশসমূহ ও ইরাকের সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

গুতেরেস তার বক্তব্যে সব সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার মেনে চলার আহ্বান জানান।#

পার্সটুডে/এমএআর/১