ইরানের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে পিছু হটলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়ার ভয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি আজ (সোমবার) তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোস্যাল ট্রুথ-এ এক পোস্টে লিখেছেন: "আমি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোতে যেকোনও সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।"
যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার পোস্টে দাবি করেছেন, ইরানের সাথে গত দুই দিন ধরে আলোচনা হয়েছে, যা খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ ছিল।
তিনি সোস্যাল ট্রুথ-এ লিখেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের শত্রুতা দূর করার জন্য একটি সম্পূর্ণ এবং ব্যাপক সমাধান অর্জনের বিষয়ে ইরানের সাথে আমাদের ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। এই সপ্তাহে ইরানের সাথে গভীর, বিস্তারিত এবং গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, "কোন আলোচনা হয়নি এবং কোন আলোচনা নেই এবং এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের সাথে, হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে আসবে না বা জ্বালানিশক্তির বাজারকে শান্ত করবে না।“
তার মতে "ইরানের সামরিক হুমকি বিশ্বাসযোগ্য হওয়ার পর ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আক্রমণ থেকে সরে এসেছেন।"
ঊর্ধ্বতন ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, " মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের মধ্যে আর্থিক বাজারের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি এই পশ্চাদপসরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।"
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব জ্বালানি, আইটি ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর আগেও একই ধরনের হুমকি দিয়ে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ধ্বংসের কথা বলেন। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা এড়িয়ে গেছেন, কারণ এতে বেসামরিক জনগণের ‘ট্রমা’ সৃষ্টি হবে।
ট্রাম্পের ওই হুমকির প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি এক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা এক ঘণ্টায় ইরানের বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারি, কিন্তু তা করিনি।’ যদি তারা তা করে, তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই গোটা অঞ্চল অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। আর এই অন্ধকার আমেরিকান সেনাদের শিকার করতে যথেষ্ট সুযোগ এনে দেবে, যারা তখন প্রাণ বাঁচাতে ছুটবে” ।
যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা লারিজানি আরও বলেন, “ইরানের আশুরার জনগণ তোমাদের ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না। তোমাদের চেয়েও বড় শক্তিগুলো ইরানকে ধ্বংস করতে পারেনি। তোমরা নিজেদের ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থেকো।”
বিশ্বের তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের পথ নির্ধারণকারী এই জলপথ ইতোমধ্যে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।