হরমুজ প্রণালী যে কারণে মার্কিন অর্থনীতির গলার কাঁটা
-
হরমুজ প্রণালী
পার্সটুডে- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে হরমুজ প্রণালী তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় এবং যারা এটি ব্যবহার করে তাদের উচিত এটি খোলার চেষ্টা করা, কিন্তু এখন তিনি হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইরানের শর্তগুলো শুনতে আলোচনার টেবিলে এসেছেন।
বিশ্লেষেকরা বলছেন, বিশ্বের প্রায় ২০% তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায় এবং এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমাদের দেশের ওপর অর্পণ করা হয়েছে; এটি এমন একটি জলপথ যা যুদ্ধের আগেও খোলা ছিল এবং প্রতিবেশী হিসেবে ইরান সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ভালোভাবে যাতায়াত ও নৌচলাচলের অনুমতি দিয়েছিল।
বাস্তবতা হচ্ছে, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার সাথে সাথে, ওই অঞ্চলে যুদ্ধের আগুন লাগার কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম এবং ইউরোপে গ্যাসের দাম ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে, যার ফলে বিশ্বের সমস্ত সরকার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধের সমালোচনা করেছে। এখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতির ওপর ইরান যে আঘাত হেনেছে, তা তাদের কল্পনার চেয়েও বড়।
ইরান পরবর্তী যে পদক্ষেপটি নিচ্ছে, যা দেশটির জনগণেরও দাবি, তা হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করা। এই বিষয়টি পেট্রোডলারের ওপর একটি বড় আঘাত হেনেছে, কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান দৃশ্যত টোল আদায়ের জন্য অন্য একটি মুদ্রা ব্যবহার করছে।
এটা লক্ষণীয় যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের প্রতিরোধের কারণে অন্যান্য দেশও এই বিষয়টি থেকে লাভবান হয়েছে, এবং এর ফলস্বরূপ অন্যান্য দেশের জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো কম কার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ইরানই তার নিষেধাজ্ঞার অকার্যকারিতার পতাকাবাহক ছিল, এবং এখন তাদের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তা বলছেন।
বিগত কয়েক দশক ধরে, ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তীব্র চাপের মধ্যেও নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে এমন প্রভাবসম্পন্ন স্থান খুব কমই আছে। ইরানের লার্ক দ্বীপ এবং ওমানের গ্রেটার কুইন দ্বীপের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি প্রায় ২১ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ, কিন্তু বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে এটি তেল ও পণ্যের টেকসই প্রবাহ নিশ্চিত করতে এক অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে।
ইরানের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হামিদ হাজ ইসমাইলি বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তিনি বলেন: মার্কিন সরকারের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ এবং চীনের ইউয়ানে তেল বিক্রির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ব বাণিজ্যে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানই দুর্বল হবে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের ভূমিকাকে আরও সুসংহত করতেও সাহায্য করবে।
তিনি আরও বলেন: এই আগ্রাসনের পর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশলগত পদক্ষেপ বিশ্বের জ্বালানি সমীকরণ বদলে দিয়েছে, এবং এই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতি এবং এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামোও গুরুতর মুদ্রাস্ফীতি, মন্দা এবং মুদ্রাজনিত চাপের সম্মুখীন হবে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।
ট্যাগ