দায়েশের সঙ্গে কাতার, তুরস্ক ও কুর্দি সরকারের সহযোগিতার দলিল ফাঁস
https://parstoday.ir/bn/news/world-i15844-দায়েশের_সঙ্গে_কাতার_তুরস্ক_ও_কুর্দি_সরকারের_সহযোগিতার_দলিল_ফাঁস
চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের জন্য ব্যাপক পরিচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস নতুন কিছু দলিল ফাঁস করে জানিয়েছে, কাতার, তুরস্ক ও ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিরা ২০১৪ সালে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের নেতাদের সঙ্গে ইরাকের মসুলে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ২৮, ২০১৬ ১৭:০৫ Asia/Dhaka
  • দায়েশের সঙ্গে কাতার, তুরস্ক ও কুর্দি সরকারের সহযোগিতার দলিল ফাঁস

চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের জন্য ব্যাপক পরিচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকস নতুন কিছু দলিল ফাঁস করে জানিয়েছে, কাতার, তুরস্ক ও ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিরা ২০১৪ সালে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের নেতাদের সঙ্গে ইরাকের মসুলে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল।

উইকিলিকসের ফাঁস করা দলিলে দেখা গেছে, ২০১৪ সালে ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, কাতার ও তুর্কি  সরকারের প্রতিনিধিরা  তুরস্কে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন এবং এ বৈঠকে ইরাকের মসুল ও সিনজার শহর থেকে দায়েশের পিছু হটার পরিকল্পনা করা হয়। এরপর  এই প্রতিনিধিরা মসুলে যান ও দায়েশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

উইকিলিকসের পাওয়া তথ্য ও দলিল অনুযায়ী তুরস্ক ও কাতারের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দায়েশের নেতাদের এই প্রস্তাব দেন যে দায়েশ বা আইএসআইএল মসুলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ার আগেই যেন এ শহর ছেড়ে চলে যায়। জবাবে দায়েশ জানায় যে, যদি তাদের কিছু শর্ত পালন করা হয় তাহলে তারা এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে। 

উইকিলিকসের প্রকাশিত সনদে আরও এসেছে, তুর্কি সরকার কাতার ও ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির সহায়তায় মসুলে তুর্কি সেনা পাঠাতে চেয়েছিল এবং তুর্কি ও কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দায়েশের নেতাদের জানান, দায়েশ যদি আন্তর্জাতিক বাহিনীর সামরিক অভিযানের শিকার হয় তাহলে তাদের সব শক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু দায়েশ যদি তার সেনাদের সিরিয়ায় পাঠায় তাহলে কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার কয়েকটি অঞ্চল এই গোষ্ঠী দখল করতে পারবে এবং এ ব্যাপারে তুরস্ক ও কাতার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।  

দায়েশ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু মসুল থেকে পিছু হটার বিনিময়ে বিপুল অংকের অর্থ দাবি করে তুর্কি, ইরাক ও কাতার সরকারের কাছ থেকে। 

দায়েশের অন্য শর্তটি ছিল তাদের সেনারা যখন দলবদ্ধভাবে সিরিয়ায় রওনা দেবে তখন ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এক নিরাপদ করিডোর তাদের জন্য তৈরি করতে হবে এবং ভারি অস্ত্রশস্ত্র স্থানান্তরের সময় তাদের ওপর যেন আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিমান হামলা না চালানো হয়। 

ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, তুরস্ক ও কাতার সরকার এরই আলোকে এক সমঝোতায় উপনীত হয়। এই সমঝোতা অনুযায়ী দায়েশের প্রতি ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির সহায়তার বিনিময়ে দায়েশ সিনজার শহর ত্যাগ করবে। কিন্তু দৃশ্যত সিনজারে পিকেকে’র  সেনা পৌঁছার পর এই সমঝোতা বাস্তবায়ন খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

এর আগে খবর এসেছিল যে ইরাকি কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান ও কুর্দিস্তান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানি ইরাক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত করার আশায় ২০১৪ সালে দায়েশের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিলেন কিংবা অন্তত ইরাকের আরব অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো দখলের সময় দায়েশকে বাধা দেয়া থেকে বিরত থাকেন। কিন্তু তাকফিরি সন্ত্রাসীরা (দায়েশ) আরবিলকে বিপদাপন্ন করলে মাসুদ বারাজানি তার অবস্থান বা নীতি পরিবর্তন করেন। 

ইরাকি কুর্দিস্তানের নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে বার বার এটা বলছেন যে, মসুলকে দায়েশ মুক্ত করার পর কুর্দিস্তানকে স্বাধীন করার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে হবে এবং এই নতুন রাষ্ট্রের সীমানাগুলোও স্পষ্ট করতে হবে! # 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/২৮