ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার জবাব: ‘এটি তেহরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার’
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163632-ইরানের_পারমাণবিক_কর্মসূচি_নিয়ে_যুক্তরাষ্ট্রকে_রাশিয়ার_জবাব_এটি_তেহরানের_অবিচ্ছেদ্য_অধিকার’
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-তে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এ কর্মসূচি পরিচালনার ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ ইরানের রয়েছে।
(last modified 2026-10-03T14:41:14+00:00 )
অক্টোবর ০৩, ২০২৬ ২০:০৪ Asia/Dhaka
  • আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-তে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত  মিখাইল উলিয়ানভ।
    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-তে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিখাইল উলিয়ানভ।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-তে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এ কর্মসূচি পরিচালনার ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ ইরানের রয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিখাইল উলিয়ানভ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ বা নন-প্রলিফারেশন বিষয়ে ‘ভুল ধারণার’ ওপর নির্ভর করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। উলিয়ানভ বলেন, “ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে বাধ্য নয়। এটি ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার।”

তিনি আরও বলেন, “দুঃখজনকভাবে, রিপাবলিকান প্রশাসনের অবস্থান পারমাণবিক বিস্তার রোধের নীতিমালা এবং IAEA-এর কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।”জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের এক বক্তব্যের জবাবে উলিয়ানভ এসব মন্তব্য করেন। ওয়াল্টজ দাবি করেছিলেন, ইরান ‘নিয়ম ভঙ্গ করেছে’ এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক উদ্দেশ্য ছাড়াই ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।

২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পরও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে যে অবস্থান নিয়ে আসছে, তা বজায় রেখেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, উভয় সংঘাতেই পারমাণবিক স্থাপনাসহ দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) লঙ্ঘন করেছে।

২০২৫ সালের প্রথম সংঘাতের পর, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে, ইরানের পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে একটি আইন পাস করে। ওই আইনের মাধ্যমে সরকারকে IAEA-এর সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত IAEA-এর পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, IAEA-এর একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রস্তাব এবং অবৈধ হামলার নিন্দা জানাতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

NPT-এর স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে ইরান বলে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত পরিদর্শনের পরও কোনো পারমাণবিক উপাদান সামরিক উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফসহ দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক অধিকার ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা—কোনোটিই আলোচনার টেবিলে নেই।

এদিকে, জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার ইরানের পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ‘বৈধ অধিকার’কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে সুন লেই বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের বৈধ অধিকারকে সম্মান করা উচিত।”

রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ইরানবিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাবের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়ার পর ওই বৈঠকে তিনি বক্তব্য দেন। চীনও ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।#

 

পার্সটুডে/এমবিএ/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।