তুর্কি-ইরানি-রুশ জোট গড়তে তেহরানে আসবেন এরদোগান: রিপোর্ট
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ এক সফরে তেহরানে আসছেন বলে লন্ডনের একটি আরবি দৈনিক খবর দিয়েছে।
তার এই সফরে সিরিয়ার বিষয়ে তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়ার একটি জোট গড়ার কাজ শুরু হবে বলে ওই দৈনিকটি জানিয়েছে। সম্প্রতি এ ধরনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সফরে এরদোগান রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ করার পথ খুঁজে বের করা ছিল এই আলোচনার প্রধান বিষয়। উভয় পক্ষ ওই আলোচনায় অর্জিত সমঝোতা বাস্তবায়নে একটি যৌথ কমিশনও গঠন করেছে।
তেহরানে এরদোগানের আসন্ন সফর ইরান-তুরস্ক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আলহায়াত মন্তব্য করেছে।
তেহরানে ইরানি, তুর্কি ও রুশ কর্মকর্তারা সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন বলে লন্ডন-ভিত্তিক আরবি দৈনিক আল-আরাব জানিয়েছে।
মস্কো সফরে গিয়ে সম্প্রতি এরদোগান যেসব লক্ষ হাসিল করতে চেয়েছেন সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ কয়েক দিন আগে তুরস্ক সফর করেছেন বলে দৈনিকটি জানিয়েছে।
তেহরান-আঙ্কারা-মস্কোর জোট পাশ্চাত্যকে মোকাবেলার জন্য একটি আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তুলবে বলেও আরবি দৈনিকটি জানিয়েছে।
দৈনিকটি লিখেছে, জারিফের ওই সফর প্রমাণ করেছে যে এ অঞ্চলে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ঘটছে যা (মার্কিনপন্থী) আরব সরকারগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলবে।
বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে আল-আরাব লিখেছে, (মার্কিনপন্থী)আরবদের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে সিরিয়ার ব্যাপারে তাদের পররাষ্ট্রনীতি গভীরভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
সম্প্রতি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়িলদিরিম বলেছেন, দামেস্কের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কোন্নয়নের সময় হয়েছে। তার ওই মন্তব্যের পর তেহরানের কূটনীতিবিদরা বলেছেন, সিরিয়ার ব্যাপারে তুর্কি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং তুরস্ক খুব সম্ভবত ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে চায়।
সিরিয়ায় ৫ বছরের সহিংস সংকটের ফলে আশপাশের দেশগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিশ্বের নানা অঞ্চলের ৪০ লাখ মানুষ হয়েছে শরণার্থী।
তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আঙ্কারা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সহায়তা নিয়ে সিরিয়ার সংকট থেকে মুক্ত হবে। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/১৮