‘কেনেডিকে হত্যা করেছে তার দেহরক্ষী!’
-
গুলি খাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সস্ত্রীক জন এফ কেনেডি
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে তার দেহরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের একজন হত্যা করেছে। মার্কিন অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক অলিভার স্টোন এ দাবি করেছেন। ১৯৬৩ সালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে ডালাসে নিহত হয়েছিলেন কেনেডি।
কেনেডির দেহরক্ষী বাহিনীর সাবেক এক সদস্যের মৃত্যুকালে দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অলিভার স্টোন এ কথা বলেছেন। এ বক্তব্য অলিভার স্টোনকে নিয়ে লেখা প্রকাশিতব্য বইয়ে তুলে ধরেছেন ম্যাট জোলার সেইটজ। দ্যা অলিভার স্টোন এক্সপেরিয়েন্স নামের বইটি আগামী মাসের ১৩ তারিখে প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
কেনেডির জীবনালেখ্য উপজীব্য করে বহুল প্রশংসিত জেএফকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন অলিভার স্টোন। এতে ষড়যন্ত্রের পরিণামে কেনেডিকে জীবন দিতে হয়েছে বলে প্রচলিত ধারণাকে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। অবশ্য, কেনেডি হত্যার সঙ্গে তার দেহরক্ষী বাহিনী জড়িত ছিল এমন দাবি এর আগে কেউই কখনো করেন নি।
অলিভার স্টোন বলেন, তার সঙ্গে কেনেডির দেহরক্ষী বাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে পরিচয় দানকারী এক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত এ ব্যক্তির সাংকেতিক নাম বা কোড নেম ‘রন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রনই তাকে জানান, নিজ দেহরক্ষী বাহিনীর কেউ একজন কেনেডিকে গুলি করেছে। নিজ ছেলে ছাড়া আর কারো সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন নি বলেও জানান রন।
অলিভার স্টোন স্বাভাবিকভাবেই এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু রন’এর সঙ্গে সামনা-সামনি কথা বলার পর এ সন্দেহ দূর হয়ে যায়। ভিয়েতনামে আমেরিকার আগ্রাসী যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক মেরিন সেনা অলিভার স্টোন। আলাপের সময় সামরিক বিষয়ে রনের জ্ঞান ও দক্ষতার বিষয়টি বুঝতে পারেন অলিভার স্টোন। এ ছাড়া, ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণও দেন রন। নিজের বর্ণনাকে খুবই নির্ভর ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে দাবি করেছিলেন রন।
এ ঘটনা প্রকাশে অলিভার স্টোনের দেরি করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সেইটজ। তিনি বলেন, এরই মধ্যে রন এবং তার ছেলে মারা গেছে। আর সেইটজকে কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন বক্তব্য তুলে ধরার মতো নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন হিসেবে মনে করেছেন অলিভার স্টোন।
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর খোলা লিমুজিনে ডালাস সফরের সময়ে গুলিতে মারা যান ৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটোরির ছয়তলা ভবন থেকে তাকে গুলি করেছিল লি হার্ভে অসওয়ার্ল্ড। আটকের দু’দিন পরে স্থানীয় এক নৈশক্লাবের মালিকের গুলিতে মারা যায় অসওয়ার্ল্ড।
কেনেডির মৃত্যু ঘটনা নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। এর মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি কাহিনীতে দাবি করা হয়েছে, অসওয়ার্ল্ডের গুলিতে নয় বরং কাছাকাছি ঘাস আচ্ছাদিত ঢিবি থেকে ছোঁড়া গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কেনেডি।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৯